এক ঝলক
নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে, অনিয়ম রুখতেই অন্নপূর্ণা’য় তথ্য যাচাই : মুখ্যমন্ত্রী কাস্ট সার্টিফিকেট যাচাইয়ের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের ধর্মীয় সমাবেশে পাকিস্তানের গোয়েন্দা, স্বীকারোক্তি ধৃত পাক চরের মাইক খোলা নিয়ে জনস্বার্থ মামলা খারিজ হাইকোর্টে ৬৫ শতাংশ বকেয়া দেওয়া শেষ, রাজ্যের দাবিতে কর্মী সংগঠনের অসন্তোষ

নিম্নচাপের টানা বৃষ্টিতে নদীভাঙনে বিপন্ন ঝাড়গ্রামের দুই গ্রামের মানুষ

স্বপ্নীল মজুমদার (ঝাড়গ্রাম): নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টিতে জল বাড়ছে সুবর্ণরেখায়। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নদীভাঙন। ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর ১ ও গোপীবল্লভপুর ২ ব্লকের সুবর্ণরেখার তীরবর্তী দুই গ্রামে এখন আতঙ্কের ছবি। কোথাও কৃষিজমি পেরিয়ে ভাঙন পৌঁছে গিয়েছে গ্রামের ভিতরে, কোথাও আবার ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে চলে গিয়েছে বসতবাড়ি, খেলার মাঠ, ক্লাবঘর ও আমবাগান।গোপীবল্লভপুর ১ ব্লকের করবনিয়া গ্রামে প্রায় ৩০০টি পরিবার নদীভাঙনের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০০ মিটার নদীপাড়ের কৃষিজমি সুবর্ণরেখায় তলিয়ে গিয়েছে। কৃষিনির্ভর এই গ্রামের বহু পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস চাষাবাদ। ফলে জমি হারানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের জীবিকা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে তপসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের বহু পরিবার সমস্যায় পড়েছেন। এ বার ভাঙনের মুখে করবনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থানীয়দের দাবি, স্কুলের বেশ কিছুটা অংশ ইতিমধ্যেই ভাঙনের কবলে পড়েছে। নদীপাড়ের একটি শিবমন্দির নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। কৃষকদের সেচের কাজে ব্যবহারের জন্য সরকারি উদ্যোগে তৈরি জল পাম্পও নদীগর্ভে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। জহরলাল কাঁড়, কুবের তরাই ও বাবাজিচরণ পাণ্ডাদের কথায়, বছরের পর বছর চোখের সামনে জমি নদীতে চলে যেতে দেখেছি। এখন স্কুল আর মন্দিরও বিপদের মুখে। এ ভাবে ভাঙন চলতে থাকলে বাড়িঘরও রক্ষা করা কঠিন হবে।’
Ganamadhyam
19 August, 2026
গ্রামবাসীদের দাবি, বর্ষা এলেই নদীর জল বাড়ার সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়। তাই সাময়িক ভাবে মাটি ফেলে ভাঙন আটকানোর বদলে স্থায়ী নদীবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। ইতিমধ্যেই যে কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে, তার পরিমাণ নির্ধারণ করে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পাশে প্রশাসনকে দাঁড়ানোর আবেদনও জানিয়েছেন তারা। একই ছবি গোপীবল্লভপুর ২ ব্লকের মালিঞ্চা গ্রামে। সুবর্ণরেখার জল বাড়তে থাকায় নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় রাতের ঘুম উড়েছে বাসিন্দাদের। ইতিমধ্যেই নদীর গ্রাসে চলে গিয়েছে গ্রামের খেলার মাঠ, সবুজ আমবাগান, স্থানীয় ক্লাবঘর এবং বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি। নদী যত এগিয়ে আসছে, ততই সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে গ্রামের বসতি এলাকা।
মালিঞ্চার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীভাঙন এখানে নতুন নয়। আগের সরকারের সময়ে তৎকালীন সেচমন্ত্রী মানস ভূঁইয়া এলাকা পরিদর্শন করে পাকা নদীবাঁধ তৈরির আশ্বাস দিয়েছিলেন। ভাঙন রোধের জন্য বরাদ্দ অর্থও হয়েছিল বলে দাবি তাঁদের। কিন্তু সেই অর্থে কার্যকর কোনও কাজ হয়নি বলে অভিযোগ। গ্রামবাসীদের একাংশের সরাসরি অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ বিপুল অর্থ স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশের পকেটে চলে গিয়েছে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বাসিন্দাদের বক্তব্য, বছরের পর বছর প্রতিশ্রুতি ও বর্ষার সাময়িক মেরামতির মধ্যেই আটকে রয়েছে নদীভাঙন রোধের কাজ। ফলে প্রতি বর্ষাতেই নতুন করে ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এ বার জলস্তর আরও বাড়লে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
করবনিয়া ও মালিঞ্চা—দুই গ্রামেরই বাসিন্দাদের দাবি, পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই সুবর্ণরেখার পাড়ে স্থায়ী ভাবে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করা হোক। নইলে কৃষিজমির পরে গ্রামের স্কুল, মন্দির এবং বসতবাড়িও নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ই-পেপার