এক ঝলক
নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে, অনিয়ম রুখতেই অন্নপূর্ণা’য় তথ্য যাচাই : মুখ্যমন্ত্রী কাস্ট সার্টিফিকেট যাচাইয়ের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের ধর্মীয় সমাবেশে পাকিস্তানের গোয়েন্দা, স্বীকারোক্তি ধৃত পাক চরের মাইক খোলা নিয়ে জনস্বার্থ মামলা খারিজ হাইকোর্টে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদের ভবিষ্যত ঝুলেই রইলো

জেনারেটরের আলোয় রাতভর বাঁধ রক্ষার লড়াই

নিজস্ব সংবাদদাতা (বসিরহাট) : সুন্দরবনের সন্দেশখালিতে টানা বৃষ্টিতে নদীর জলস্তর বাড়তেই ফের সামনে এসেছে দুর্বল বাঁধের আতঙ্ক। বসিরহাটের সন্দেশখালি ১নং ব্লকের ন্যাজাটের গাজিখালিতে রায়মঙ্গল নদীর পাড়ের বাঁধে ধস ও ফাটল দেখা দেওয়ায় রাতভর গ্রামবাসীদের সঙ্গে নিয়ে বাঁধ রক্ষার কাজে নামলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক সনৎ সর্দার। জেনারেটরের আলো জ্বালিয়ে মঙ্গলবার রাতভর বাঁধ মেরামতির প্রাথমিক কাজ চালান বিধায়ক ও তার সঙ্গীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গাজিখালিতে নদীর প্রবল স্রোত ও টানা বৃষ্টির জেরে বাঁধের বেশ কিছু অংশে মাটি ধসে পড়ে এবং ফাটল তৈরি হয়। পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিতে পলিথিন, বাঁশ, ইঁট ও মাটির বস্তা দিয়ে ধস আটকানোর চেষ্টা শুরু হয়। বিধায়ক নিজে ঘটনাস্থলে থেকে কাজের তদারকি করায় উৎসাহিত হয়ে একে একে বাঁধ রক্ষার কাজে হাত লাগান এলাকার বাসিন্দারাও। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নদীর জল ফুঁসতে থাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। অন্ধকারে কাজ চালানো কার্যত বিপজ্জনক হয়ে পড়লেও জেনারেটরের আলোয় স্থানীয়রা দল বেঁধে বাঁধে মাটির বস্তা ফেলতে শুরু করেন। অনেকেই কোমরে গামছা বেঁধে নদীর পাড়ে নেমে পড়েন। তাদের লক্ষ্য ছিল, বাঁধের দুর্বল অংশ কোনওভাবে রাতের জোয়ারের ধাক্কায় ভেঙে পড়ার আগেই সাময়িকভাবে আটকে দেওয়া। স্থানীয় বাসিন্দা কল্পনা মণ্ডল ও ফকির গাজীর দাবি, সময়মতো বাঁধের ফাটল বন্ধ করার চেষ্টা না হলে বড় এলাকা নোনা জলে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধের স্থায়ী মেরামতির কাজ না হওয়ায় বর্ষা এলেই নদীপাড়ের মানুষকে আতঙ্কে থাকতে হয়। দ্রুত ধস মেরামত করে বাঁধের দুর্বল অংশগুলিকে স্থায়ীভাবে শক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। বিধায়ক সনৎ সর্দার বলেন, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সন্দেশখালির রায়মঙ্গল নদীর পাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় মাটি আলগা হয়ে ধস নামতে শুরু করেছে। গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় আপাতত বাঁধ রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তবে বর্ষাকালে জলস্তর বৃদ্ধি এবং প্রবল স্রোতের কারণে পরিস্থিতি যে কোনও সময় আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। বিষয়টি সেচ দফতরকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে স্থানীয়দের আশঙ্কা, সাময়িকভাবে ধ্বস আটকানো গেলেও দ্রুত স্থায়ী মেরামতির ব্যবস্থা না করা হলে পরবর্তী জোয়ার ও প্রবল স্রোতে বাঁধের বড় অংশ ভেঙে পড়তে পারে। ফলে নোনা জলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
Ganamadhyam
19 August, 2026
ই-পেপার