এক ঝলক
নানা ধরনের অনিয়ম হয়েছে, অনিয়ম রুখতেই অন্নপূর্ণা’য় তথ্য যাচাই : মুখ্যমন্ত্রী কাস্ট সার্টিফিকেট যাচাইয়ের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের ধর্মীয় সমাবেশে পাকিস্তানের গোয়েন্দা, স্বীকারোক্তি ধৃত পাক চরের মাইক খোলা নিয়ে জনস্বার্থ মামলা খারিজ হাইকোর্টে ৬৫ শতাংশ বকেয়া দেওয়া শেষ, রাজ্যের দাবিতে কর্মী সংগঠনের অসন্তোষ

ধর্মীয় সমাবেশে পাকিস্তানের গোয়েন্দা, স্বীকারোক্তি ধৃত পাক চরের

নিজস্ব সংবাদদাতা: হিমালয়ের কোলে ধর্মীয় সমাবেশের আড়ালে ভারতকে অশান্ত করার বড়সড় নীল নকশা তৈরি করেছিল পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। ২০২০ সালে নেপালে আয়োজিত তবলিঘি জামাতের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ফাঁদ পেতে ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় চরবৃত্তির জাল বিস্তার করা হয়েছিল। সম্প্রতি রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের বা এসটিএফ-এর হাতে ধরা পড়া পাক চর রানা রউফ খালিদ ওরফে সানি ওরফে ওয়াহাব আলমকে জেরা করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ছ’বছর আগে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নেপালের সপ্তরী জেলার বোদবারসাইন এলাকায় ‘আলামি তবলিঘি ইজতেমা’র আয়োজন করা হয়। ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কুয়েত ও কাতারসহ একাধিক দেশ থেকে লক্ষাধিক মানুষ সেই সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক এই ধর্মীয় সমাবেশের সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ছদ্মবেশে সেখানে হাজির হন বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ আইএসআই কর্তা। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ভারত ও বাংলাদেশে অবাধ যাতায়াত থাকা নেপাল প্রবাসী পাকিস্তানি ও কিছু ভারতীয় বাসিন্দাকে ফাঁদে ফেলা। এসটিএফের হাতে ধৃত পাক চর রানা নিজেও ওই ইজতেমায় উপস্থিত ছিল। পাকিস্তানি নাগরিকত্ব ও চরবৃত্তির সুবাদে সে সরাসরি ইজতেমা চলাকালীনই আইএসআই আধিকারিকদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে অংশ নেয়। গোয়েন্দাদের অনুমান, ওই বৈঠকে রানা ছাড়াও কাশিফ, হানিফ চৌধুরি, সোহায়েল, জেডি এবং হারুণ সফদার নামে আরও পাঁচজন পাকিস্তানি উপস্থিত ছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পাকিস্তান থেকে হাওলা মারফত টাকা পাঠিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে চরবৃত্তির নতুন মডিউল ও স্লিপার সেল তৈরি করা হবে। ভারতের সীমান্ত ঘেঁষা নেপালের দক্ষিণ অংশের মাহোত্তারি, রাউতাহাত, পার্সা, কপিলবস্তু, সুনসারি, বাঁকে ও বরা অঞ্চলকে চরবৃত্তির মূল ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। পাশাপাশি কাঠমান্ডু ও তার আশপাশের এলাকা থেকেও উত্তরবঙ্গ এবং কলকাতায় ভুয়া পরিচয়ে অনুপ্রবেশ করিয়ে সেল তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছিল আইএসআই। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, নেপালে সক্রিয় অন্তত ১৫টি ছদ্মবেশী সংগঠন, যাদের আড়ালে জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালিত হয়, তাদের সদস্যদেরও ভারতের বিরুদ্ধে এই নেটওয়ার্কে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। বর্তমানে ধৃত রানাকে জেরা করে এই চক্রের বাকি সদস্যদের সন্ধান চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা।
Ganamadhyam
19 August, 2026
ই-পেপার