গঙ্গা ভাঙনের খবরের জেরে তৎপর প্রশাসন ও রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী
বিশ্বজিৎ সাহা (মালদহ): সংবাদ প্রকাশের পরই নড়েচড়ে বসল জেলা প্রশাসন। জিতুটোলার ভয়াবহ গঙ্গাভাঙনের খবর সামনে আসতেই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তড়িঘড়ি ভাঙন কবলিত এলাকায় পৌঁছলেন রাজ্যের সেচ ও জলপথ উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী জুয়েল মুর্মু। সোমবার সকালে রতুয়া-১ ব্লকের জিতুটোলা এলাকায় গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন রতুয়ার তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ও। রবিবার থেকে গঙ্গার ভাঙন শুরু হওয়ায় জিতুটোলা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যেই ৫০টিরও বেশি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। বসতবাড়ির পাশাপাশি বহু মানুষের চাষের জমিও গঙ্গায় তলিয়ে গিয়েছে। চোখের সামনে ঘরবাড়ি ও জমি নদীতে চলে যাওয়ায় কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন একাধিক পরিবার। কেউ অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ ত্রিপল টাঙিয়ে কোনওরকমে দিন কাটাচ্ছেন।সোমবার ভাঙনের তীব্রতা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। নদীর গতিপথের দিকে তাকিয়ে এখনও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা। অনেক পরিবার আগেভাগেই নিজেদের ঘরবাড়ির প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরিয়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যাচ্ছেন। তাদের প্রধান দাবি, শুধু সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানো নয়, দ্রুত স্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এদিন এলাকায় গিয়ে মন্ত্রী জুয়েল মুর্মু স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যার কথা শোনেন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলির পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হয়েছে বলেও দাবি করেন মন্ত্রী। তার বক্তব্য, বর্ষাকালে জরুরি ভিত্তিতে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি বর্ষা শেষ হলে স্থায়ীভাবে ভাঙন মোকাবিলায় পরিকল্পনা নেওয়া হবে।অন্যদিকে বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় এলাকায় পৌঁছতেই কয়েকজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে স্থায়ী কাজের গতি দেখা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা চুমকি মণ্ডলের অভিযোগ, ভোটের আগে একাধিকবার স্থায়ী ভাঙন রোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনও সেই কাজ বাস্তবায়িত হয়নি। তার দাবি, ভাঙন প্রতিরোধের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনও জরুরি।ভাঙনে সর্বস্ব হারানো মন্টু মণ্ডলের কথায় উঠে এসেছে অসহায়তার ছবি। তাঁর দাবি, চাষের জমি ও বসতবাড়ি হারিয়ে এখন অন্যের জমিতে ত্রিপলের নিচে পরিবার নিয়ে থাকতে হচ্ছে। দ্রুত নিরাপদ জায়গায় থাকার ব্যবস্থা না হলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা তার।জিতুটোলায় দাঁড়িয়ে অতীতের সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সমর মুখোপাধ্যায়। তার দাবি, ভাঙন প্রতিরোধের কাজ নিয়ে আগেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছিল। কিন্তু স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ যথেষ্ট হয়নি। বর্ষা শেষ হওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী জুয়েল মুর্মু জানান, ভাঙন মোকাবিলায় অর্থের কোনও ঘাটতি হবে না। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যে প্রায় ৩৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করেছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও অর্থের ব্যবস্থা করা হবে। আপাতত জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্ষা শেষ হলে স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধের কাজ শুরু করার আশ্বাসও দেন তিনি।এখন জিতুটোলার ভাঙনপীড়িত মানুষের একটাই দাবি—নদীর গ্রাস থেকে বসতভিটে রক্ষা, হারানো পরিবারগুলির পুনর্বাসন এবং দীর্ঘদিনের ভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান।