অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু, স্বস্তিতে এলাকাবাসী
খাদিমুল ইসলাম( বানারহাট): আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েকদিন উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। জারি হয়েছে লাল সতর্কতা।
পাহাড়ে ভারী বৃষ্টির জেরে নদীগুলিতে হড়পা বানের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রশাসন ডাইনা নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করেছে। গত বছরের ৫ অক্টোবরের ভয়াবহ বন্যায় ডাইনা নদীর পার্শ্ববর্তী খয়েরকাটা ও নাগরাকাটার বামনডাঙা-সহ একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন নদীর নিয়মিত পরিচর্যা না হওয়ায় নদীতে বিপুল পরিমাণে বালি জমে নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নদীর জল আশপাশের গ্রামে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর ভাঙন এবং গতিপথ পরিবর্তনের ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন ডাইনা ও জলঢাকা—দুই নদীতেই ড্রেজিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শনিবার থেকে ডাইনা নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। নদীর গভীরতা বৃদ্ধি, জলধারণ ক্ষমতা বাড়ানো এবং নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বজায় রাখাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তবে জলঢাকা নদীতে এখনও ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু করা যায়নি। প্রশাসনের দাবি, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও বাইরের লোকজনের উস্কানিতে কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। ফলে সেখানে প্রকল্প বাস্তবায়ন আপাতত থমকে রয়েছে। ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদী বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশপ্রেমীদেরও মত, সময়মতো ড্রেজিং না হলে অতিভারী বৃষ্টির সময় নদীর জল গ্রামে ঢুকে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গত বর্ষায় ডাইনা নদীর বাঁধও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এবারও যদি দ্রুত নদীর সংস্কার না হয়, তবে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ডাইনা অরণ্যের বন্যপ্রাণীরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে ভুটান, দার্জিলিং ও সিকিম পাহাড়ে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি নদীগুলির জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই প্রশাসন আগাম প্রস্তুতি হিসেবে নদী সংস্কারের কাজ জোরকদমে চালিয়ে যাচ্ছে। ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু হওয়ায় আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এলাকার মানুষ।