এক ঝলক
ফের চালু ভারতের টুরিস্ট ভিসা, হিলি সীমান্তে খুশির হাওয়া অতিভারী বৃষ্টির আগে ডাইনা নদীতে ড্রেজিং শুরু, স্বস্তিতে এলাকাবাসী সৈয়দ নুরুল হাসান কলেজে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তের দাবিতে সরব এবিভিপি আবাস যোজনায় কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ, ধুলিয়ানে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর মটগোদায় সমবায় গুদাম ঘিরে উত্তেজনা, উদ্ধার সরকারি সামগ্রী

রেজিনগরে ফের বেলাগাম হুমায়ুন কবীর, স্যাটাভাঙা মার শুরুর হুঁশিয়ারি

অভিজিৎ মন্ডল(ফারাক্কা): দল বদলালেও বদলাল না ভাষার প্রয়োগ। রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রাক্তন শাসক শিবির থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও নিজের বিতর্কিত ও আগ্রাসী ইমেজেই অনড় রইলেন মুর্শিদাবাদের নেতা তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির একমাত্র বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
Ganamadhyam
28 June, 2026
শুক্রবার রেজিনগরের কাশীপুর এলাকার একটি জনসভা থেকে ফের একবার অত্যন্ত উসকানিমূলক ও বেলাগাম মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন তিনি। বিরোধীদের স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আমি যখন মুসলমানদের জড়ো করে  স্যাটাভাঙা মার শুরু করব না, পালানোর পথ পাবেন না।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর— দুটি কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন। যদিও পরে রেজিনগর আসনটি তিনি ছেলের জন্য ছেড়ে দেন। শুক্রবার সেই রেজিনগরের মাটিতে দাঁড়িয়েই নাম না করে বিজেপি নেতৃত্বের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,আমি শুভেন্দু অধিকারীকে বলেছি, আপনারা জিতেছেন, ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে হেরেও দু-একজন এমন আস্ফালন দেখাচ্ছেন যেন তারাই বিধায়ক। এই আস্ফালনটা একটু কমান। নইলে মুসলমানদের জড়ো করে যখন মার শুরু করব, পালানোর রাস্তা থাকবে না।
তার এই মন্তব্যের পর আইনি ব্যবস্থার প্রসঙ্গ উঠলে হুমায়ুন কবীর পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, কেস দেবেন? ওরকম কেস আমাদের বিরুদ্ধে অনেক আছে। মাথা গরম হয়ে গেলে আমি এসপি, চিফ মিনিস্টার— এসব কিছু বুঝব না। আমরা রাজশক্তির বিরোধিতা করতে চাই না, সম্মান দিতে চাই। কিন্তু হেরেও যদি ওরা ঝামেলা বাঁধানোর চেষ্টা করে, তবে আমি নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে প্রতিরোধ করব। হুমায়ুনের এই উত্তেজক ভাষণের তীব্র সমালোচনা করেছেন ভরতপুরের বিজেপি প্রার্থী অনামিকা ঘোষ। তিনি সাফ জানান, হুমায়ুন কবীর যখন ভরতপুরের বিধায়ক ছিলেন, তখন সেখানে অশান্তি ও তোলাবাজির পরিবেশ ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেখানে শান্তির পরিবেশ বজায় রয়েছে এবং তার এই "থ্রেট কালচার" আর মানুষ মেনে নেবে না। অনামিকা ঘোষ আরও যোগ করেন একজন নারী নেত্রী বা বিধায়কের বিরুদ্ধে হুমায়ুন কবীর যে ধরনের কুরুচিকর ও আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করছেন, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক।একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এই ধরনের ভাষা কোনোভাবেই শোভা পায় না। বর্তমান সরকার সার্বিক উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী ধর্মীয় বিভেদ বা অশান্তি তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
উল্লেখ্য, গত লোকসভা নির্বাচনের সময় ‘হিন্দুদের কেটে ভাগীরথীর জলে মিশিয়ে দেব’— সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্য থেকে শুরু করে একাধিক সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বয়ানের ইতিহাস রয়েছে হুমায়ুনের। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে দলবিরোধী কাজ ও অতি- সক্রিয়তার জেরে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হন তিনি।পরবর্তীতে নিজেই ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করে ভোটে লড়েন। ভোটের আগে কোটি টাকার বিনিময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর চক্রান্তের অভিযোগে তার একটি অডিও ক্লিপও ভাইরাল হয়েছিল। তবে সমস্ত সমালোচনাকে উড়িয়ে দিয়ে তিনি জোড়া আসনে জয়লাভ করেন। কিন্তু নতুন রাজনৈতিক ইনিংসেও তার এই ‘লড়াকু ও বেলাগাম’ মেজাজ রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে পারদ চড়াচ্ছে।
ই-পেপার