বিল্ডিংয়ের ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় ১৭ শ্রমিকের। ওই দিন দুপুর থেকেই উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেনা- এনডিআর টিম, দমকল বাহিনী। বিপর্যয়ের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে শনিবার। এরপরই ধীরে ধীরে ঘটনাস্থল ছাড়তে শুরু করেন উদ্ধারকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধারকাজ আপাতত শেষ। শনিবার দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়াররা। পার্থপ্রতিম বিশ্বাস জানান, আমরা এখানে এসে দেখলাম ঠিকই, কিন্তু উদ্ধারকাজ যতক্ষণ না পুরোপুরি শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ কিছু করা যাচ্ছে না। এখনও এখান থেকে পচা গন্ধ বেরচ্ছে, সম্ভবত কিছু দেহাংশ আটকে আছে। পুলিশ আমাদের সাহায্য চেয়েছে।সেইমতো উপচার্যের অনুমতি নিয়ে আমরা ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫জন এসেছি। দুটি পর্যায়ে কাজ হবে। উদ্ধারকাজ শেষের পর আমরা আবার এখানে এসে সব দেখব। তারপর এখান থেকে কিছু নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করব। মাটি পরীক্ষাও হবে। সেসব দেখে তারপর রিপোর্ট দিতে পারব। যদিও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শনিবার দুপুর ২টো নাগাদ উদ্ধারকাজে আপাতত ইতি টেনেছে পুলিশ,দমকল, এনডিআরএফ, সেনা। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপে আর কেউ আটকে নেই। এবার হয়তো কাজ শুরু করবেন বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়াররা। তবে উদ্ধারকাজ শেষ হলেও ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ। বিপর্যয় নেপথ্যের কারণ খুঁজতে, ঘটনাস্থলে রয়ে যাওয়া নমুনাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তদন্তকারীদের হাতে। তাই প্রমাণ অক্ষত রাখতেই তারাতলার ধ্বংসস্তূপে কড়া পাহারা দিচ্ছে পুলিশ।এদিকে লালবাজার সূত্রে খবর, বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে কলকাতা পুলিশের ফরেন্সিক টিম পরিদর্শনে যাবে। তারপরই শুরু হবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। ইতিমধ্যেই তারাতলায় নির্মাণ কাজের সময় দুর্ঘটনার ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। যুব কল্যাণ ও ক্রীড়া দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব রাজেশ কুমার সিনহাকে কমিটির চেয়ারম্যান করে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে কলকাতা পুরসভা, দমকল, পুলিশ, ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট, পিডব্লুডি সহ একাধিক দপ্তরের প্রতিনিধিদের রাখা হয়েছে৷ ৭ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এদিকে শনিবারই পুলিশের অনুরোধে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জনের বিশেষজ্ঞ দল। কনস্ট্রাকশন বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার পার্থপ্রতিম বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি টিম তৈরি করে তারাতলায় পাঠানো হয়।এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার আহত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে৷ এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সূত্রের খবর, বেসরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১৭ জন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, তারাতলার দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকাজ কঠিন থেকে আরও কঠিনতর হচ্ছে। চলছে ইনটেনসিভ কাটিং করে ঢালাই কংক্রিট এবং টিনের পাত সরানোর চেষ্টা। পাশাপাশি রেলের সরঞ্জাম দিয়ে বিম কাটা হচ্ছে কোনও কোনও অংশে। মেডিকেল টিম প্রস্তুত আছে এএমসি-এর পক্ষ থেকে৷ প্যানকেক কোল্যাপ্সের শেষ লেয়ার অবধি পকেট করা গিয়েছে। সেই অনুয়ায়ী প্রাণের স্পন্দন খুঁজে উদ্ধারকাজ চলছে। এদিকে পচা দুর্গন্ধ বেরতে শুরু করেছে এলাকায়। আর কোনও প্রাণের স্পন্দন রয়েছে কি না সেই সব কিছু আজ আরও নিঁখুতভাবে চেক করবে এনডিআরএফ।ঘটনার স্থলের সামনে উদ্ধারকারীদের জন্য ছোট হাসপাতালের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ ছোট হলেও সমস্ত ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে৷ রয়েছে অক্সিজেনের ব্যবস্থা, যাবতীয় মেডিসিন, সিপিআর-এর ব্যবস্থাও। সঙ্গে রয়েছে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা আছে। ছোটখাটো অপারেশনও সম্ভব ওই ছোট হাসপাতালেই। এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারাতলায় ভেঙে পড়া বাণিজ্যিক ভবনটি আসলে তৈরি হচ্ছিল গুদাম ও হিমঘর। কিন্তু তার পরতে পরতে নকশায় ত্রুটি। ঠিক কী কী গলদ ছিল, তা বিশদে জানতে কলকাতা পুলিশ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাহায্য চেয়েছে।