প্রদীপ কুন্ডু (কোচবিহার): পথ দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত খুন—৩৬ বছরের এক যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে এই মুহূর্তে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। কোচবিহার-২ নম্বর ব্লকের চকচকা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বড়গিলা এলাকায় রাস্তার উপর থেকে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম তাপস সরকার (৩৬)। তিনি খাপাইডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের তল্লিতলা এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় গাড়িচালক। বর্তমানে কোচবিহার জেলা শাসকের দপ্তরের গাড়ির চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে পুন্ডিবাড়ি থানার পুলিশ পেট্রোলিং করার সময় বড়গিলা এলাকায় রাস্তার উপর রক্তাক্ত অবস্থায় তাপসকে পড়ে থাকতে দেখে। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শেষরক্ষা হয়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। প্রথমদিকে ঘটনাটি নিছক পথ দুর্ঘটনা বলেই মনে করা হলেও, মৃতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। পরিবারের দাবি, ঘটনাটি দুর্ঘটনা নয়, তাপসকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি তুলেছে মৃতের পরিবার। পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর একটি বন্ধুর বাড়িতে জন্মদিনের নিমন্ত্রণে যান তাপস। পাশাপাশি একটি মনসা পুজোর নিমন্ত্রণেও যাওয়ার কথা ছিল তার।বাড়ির সদস্যরা একাধিকবার ফোন করলে তাপস জানিয়েছিলেন, নিমন্ত্রণ রক্ষা করে বাড়ি ফিরতে তার রাত হবে। কিন্তু রাত বাড়তে থাকলেও তিনি বাড়ি ফেরেননি। ক্রমশ উদ্বেগ বাড়তে থাকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। এরপরই পরিবারের কাছে আসে তাপসের মৃত্যুর খবর। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার রক্তাক্ত দেহ এবং শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। তাদের অভিযোগ, যদি এটি শুধুই পথ দুর্ঘটনা হয়, তাহলে তাপসের শরীরে থাকা আঘাতের ধরন এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতির ব্যাখ্যা কী—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করাই এখন তদন্তকারীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। ঘটনার পর ইতিমধ্যেই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুন্ডিবাড়ি থানার পুলিশ। তাঁদের সঙ্গে তাপসের কী সম্পর্ক ছিল, মঙ্গলবার রাতে তাদের গতিবিধি কী ছিল এবং ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তাপসকে কি সত্যিই গাড়ি ধাক্কা দিয়ে মৃত্যু হয়েছে, নাকি দুর্ঘটনার ছদ্মবেশে তাঁকে খুন করা হয়েছে? যদি খুন হয়ে থাকে, তাহলে কারা এই ঘটনার নেপথ্যে এবং কী উদ্দেশ্যেই বা তাঁকে হত্যা করা হল? শেষবার কার সঙ্গে ছিলেন তাপস? নিমন্ত্রণের পর তাঁর গতিবিধিই বা কী ছিল? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখন পুলিশের তদন্তের উপরেই নির্ভর করছে। ইতিমধ্যেই ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে পুন্ডিবাড়ি থানার পুলিশ।