মধ্য রাতে নিউ মার্কেটের কাছে একটি হোটেলে আগুন, শিশুসহ মৃত ৯
নিজস্ব সংবাদদাতা: তারাপীঠের পর এবার শহর কলকাতার হোটেলেও ভয়াবহ আগ্নিকাণ্ড। মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ মার্কেট থানা এলাকার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লেগে যায়। সেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৯ আবাসিকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। সূত্রের খবর, আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে কয়েক জন অচৈতন্য হয়ে পড়েন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। শিশু-সহ ন’জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুন লাগে। আগুন থেকে তৈরি হওয়া ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়েই আবাসিকদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে অনুমান। দিন কয়েক আগেই তারাপীঠের একটি হোটেলে আগুন লাগে। মৃত্যু হয় ৯ জনের। তার রেশ কাটতে না কাটতেই কলকাতার হোটেলে এই অগ্নিকাণ্ড। এই অগ্নিকান্ডের ঘটনাতেও প্রশ্ন উঠছে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে। হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে গঠন করা হয়েছে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিট। পাঁচ সদস্যের এই সিট-এর মাথায় থাকছেন ডিসি ডিডি পদমর্যাদার অফিসার। বুধবার অ্যাডিশনাল সিপি (অপরাধ দমন শাখা) কুণাল আগরওয়াল জানান, সিট গঠনের পাশাপাশি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে দমকলের তরফে। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ২টোর আগে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলের তিনতলায় আগুন লাগে। ধোঁয়ায় ভরে যায় হোটেলের ঘরগুলি। সেই আগুন ছড়ায় আশপাশে।
আতঙ্কে আবাসিকেরা ছোটাছুটি শুরু করেন। যে হোটেলে আগুন লাগে তার একটা ভবন পরেই দমকলের সদর দফতর। রাত ২টো ০৭ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় দমকল। শুধু দমকল নয়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় নিউ মার্কেট থানার পুলিশ, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। প্রথমে বাইরে থেকে আগুন নেবানোর চেষ্টা করেন দমকলকর্মীরা। পরে তারা হোটেলের ভিতরে ঢুকে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। দমকলের প্রাথমিক অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। তবে বিষয়টি বিশদে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আগুন যখন লাগে তখন হোটেলের আবাসিকেরা ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থেকে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল না বলে দাবি স্থানীয়দের। গলগল করে শুধু কালো ধোঁয়া বার হতে দেখা যায়। আগুন লাগার খবর ছড়াতেই আবাসিকেরা হোটেলের বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, হোটেলের ঢোকা- বেরোনোর পথ খুবই সঙ্কীর্ণ। আবাসিকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। জানা গিয়েছে, ৬০ জন আবাসিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে অনেকেই অচৈতন্য হয়ে পড়েছিলেন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, মৃতদের শরীরে দগ্ধ হওয়ার বা ঝলসে যাওয়ার চিহ্ন তেমন নেই। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, শ্বাসরোধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে। কয়েক জনের অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। প্রশ্ন উঠছে, হোটেলের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে। আদৌ ওই হোটেল বা তার আশপাশের হোটেল গুলিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে পুলিশের। ইতিমধ্যেই হোটেল এবং তার আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ওই হোটেলের লিফ্ট বন্ধ হয়ে যায়। সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করেন আবাসিকেরা। তবে কয়েক জন হোটেলের মধ্যে আটকে পড়েন। কী ভাবে বাইরে বার হবেন, তার পথ খুঁজে পাননি। ধোঁয়া বেড়ে যাওয়ায় দমবন্ধ অবস্থার সৃষ্টি হয়। আগুনের তাপে সিঁড়ি হয়ে গিসলো ভয়ানক গরম।হোটেলের ভিতরেই জ্ঞান হারান তারা। পুলিশ জানিয়েছে, ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ উদ্ধারকাজ শেষ হয়। দমকলের চারটি ইঞ্জিন আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।