কোচবিহারের ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
প্রদীপ কুন্ডু (কোচবিহার): কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং অপর একটি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানকে ঘিরে উঠল গুরুতর অভিযোগ। রোগী ও তাদের পরিবারের অভিযোগ, ওষুধ কেনার পর নিয়ম মেনে পাকা বা অরিজিনাল বিল দেওয়ার পরিবর্তে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে হাতে লেখা ‘কাঁচা বিল’। শুধু তাই নয়, ওষুধের নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে দোকানের কর্মীদের বিরুদ্ধে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকানের লেনদেন ব্যবস্থা কতটা স্বচ্ছ?
বুধবার বেশ কয়েকজন রোগীর পরিবার ওষুধ কেনার পর হাতে লেখা বিল হাতে পান বলে অভিযোগ। পরিবারের সদস্যরা পাকা বা অরিজিনাল বিল দাবি করলে প্রথমে দোকানের কর্মীরা তা দিতে অস্বীকার করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সংবাদমাধ্যম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি বদলায় এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারকে অরিজিনাল বিল দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে রোগীর পরিবারের সঙ্গে দোকানের কর্মীদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অভিযোগ, রোগী পরিবারের সদস্যদের প্রতিবাদে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীরা। তাদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। শেষ পর্যন্ত খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রোগী পরিবারের বক্তব্য, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে একদিকে বিপুল খরচের চাপ, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে গিয়ে যদি নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি টাকা দিতে হয় এবং তার বিনিময়ে নিয়মমাফিক বিল না মেলে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন? তাদের দাবি, বিষয়টি শুধু একটি দোকানের বিল দেওয়ার পদ্ধতির প্রশ্ন নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং রোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার। অভিযোগের বিষয়ে দোকানের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলা হলে তারা হাতে লেখা বিল দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে তারা বলছেন। তবে অতিরিক্ত দাম নেওয়া এবং রোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে এখনও কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট বক্তব্য সামনে আসেনি। রোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আনার পাশাপাশি লিখিত অভিযোগ জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের। অভিযোগগুলি তদন্ত করে সত্যতা প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে হাসপাতাল চত্বরেই।