এক ঝলক
বাঙালি সংখ্যালঘুরা সরকারের সঙ্গেই থাকতে চায়, প্রমাণ হল : শুভেন্দু অধিকারী বিকাশরঞ্জনের বাড়িতে তাণ্ডবে পুলিশের জালে গড়িয়ার যুবক এসএসসির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে মামলা

অসম–বাংলা সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন ব্যক্তির অনুপ্রবেশ, গ্রেফতার

প্রদীপ কুন্ডু (কোচবিহার): অসম–বাংলা সীমান্তের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এক ব্যক্তির অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ এবং পরিচয় গোপন করে বসবাসের অভিযোগ সামনে আসতেই নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি। ভানুকুমারী বাজার এলাকায় সাধুর ছদ্মবেশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বক্সিরহাট থানার পুলিশ। ধৃত ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক বলে সন্দেহ করছে পুলিশ। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও বাংলাদেশের একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রে খবর। ধৃতকে তুফানগঞ্জের সিজিএম আদালতে পেশ করা হলে আদালত তাকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ভানুকুমারী বাজার এলাকায় নজরদারি শুরু করেন বক্সিরহাট থানার পুলিশকর্মীরা। খবর ছিল, ওই এলাকায় এক ব্যক্তি সাধুর ছদ্মবেশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছেন। তার পরনে ছিল লাল জামা এবং গায়ে লাল সালুর মতো পোশাক।
Ganamadhyam
11 October, 2026
 বিষয়টি নজরে আসতেই পুলিশ তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। পরবর্তী তদন্তে তার পরিচয় এবং ভারতে বসবাসের বৈধতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে আসে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি।‌পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর নিজের পরিচয় পরিবর্তন করে নকল আধার কার্ড তৈরি করে ভারতে বসবাস করছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে ধৃতের প্রকৃত নাম আব্দুল কাদের চৌধুরী  ওরফে রতন চৌধুরী জানা যায়।
 তার বাড়ি বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট থানার অন্তর্গত সিংতি গ্রামে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনাকে নিছক সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করার অভিযোগ হিসেবে দেখেই থেমে থাকা যায় না। অসম–বাংলা সীমান্ত সংলগ্ন ভানুকুমারী–বক্সিরহাট অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থান এবং সীমান্তের নিরাপত্তাগত গুরুত্বের কারণে, অবৈধভাবে প্রবেশ করে পরিচয় গোপন করে বসবাসের অভিযোগ স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি গুরুত্ব বহন করছে। বিশেষ করে, যদি নকল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়, তাহলে সেই নথি কীভাবে তৈরি হলো এবং সংশ্লিষ্ট যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনও ফাঁক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভিযুক্তের ভারতে প্রবেশের প্রকৃত পথ কী ছিল, তিনি কতদিন ধরে এ দেশে রয়েছেন এবং তার ব্যবহৃত পরিচয়পত্রের উৎস কোথায়—এই প্রশ্নগুলির উত্তর এখনও তদন্তসাপেক্ষ। সীমান্তবর্তী এলাকায় কোনও ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তা যথাযথভাবে যাচাই করা যেমন জরুরি, তেমনই তদন্তের তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্তে পৌঁছনো প্রয়োজন। ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন এবং বাংলাদেশের ডায়েরি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠতে পারে। ওই ডায়েরিতে কী ধরনের তথ্য রয়েছে, মোবাইল ফোনে কার কার সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায় এবং অভিযুক্তের পরিচয় সংক্রান্ত নথিগুলির সত্যতা কতটা—তা খতিয়ে দেখা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় অন্য কারও সহযোগিতা ছিল কি না কিংবা অভিযুক্ত কোনও বৃহত্তর চক্রের সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়েও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও বৃহত্তর চক্রের যোগসূত্রের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ধৃতকে তুফানগঞ্জের সিজিএম আদালতে পেশ করে পুলিশ। আদালত তাকে চার দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
ই-পেপার