নিজস্ব সংবাদদাতা (হাওড়া): রাজ্যজুড়ে যখন অপরাধের নিত্যনতুন রূপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই হাওড়া জেলা পুলিশের তৎপরতায় বড়সড় সাফল্য মিলল। হাওড়া গ্রামীণ ও হাওড়া কমিশনারেট এলাকা থেকে একাধিক বিলাসবহুল ও সাধারণ বাইক চুরির ঘটনায় যুক্ত মূল ২ দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এর পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে মোট ১৩টি চোরাই মোটরসাইকেল।শুক্রবার ডিসি (ডিডি) রাহুল মিশ্র এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনেন।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস ধরে হাওড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাগাতার বাইক চুরির অভিযোগ জমা হচ্ছিল। বিশেষ করে ডোমজুড় থানা এলাকায় প্রায় ২ সপ্তাহ আগে একটি বাইক চুরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হওয়া। এর পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। শুরু হয় সাইবার ও ম্যানুয়াল ইনভেস্টিগেশন। এই তদন্তের সূত্র ধরেই গত বুধবার পুলিশ শেখ মসিউল ওরফে মেনু এবং মনিরুল হোসেন মোল্লা এই দুই দুষ্কৃতীকে জালে তোলে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ধৃত মসিউল ওরফে মেনু একজন কুখ্যাত ও দাগি অপরাধী। এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক বাইক চুরি এবং এটিএম ও ডাকাতির মামলা রয়েছে। কিছুদিন আগে সে জামিনে মুক্ত হলেও, কারাগার থেকে বেরিয়ে ফের একই অপরাধমূলক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে, অপর ধৃত মনিরুল হোসেন মোল্লার উলুবেড়িয়ার গ্যারেজ থেকেই গত বৃহস্পতিবার রাতে মোট ১৩টি চোরাই বাইক উদ্ধার করে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার ধৃতদের হাওড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার শ্যামপুর থানা এলাকা থেকেও বেশ কিছু বাইক উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জেরায় জানা গেছে, এই চক্রের সদস্যরা মূলত জনবহুল পার্কিং এলাকা, বাজারের আশপাশ কিংবা ফাঁকা বাড়ির সামনে রাখা বাইকগুলোকে টার্গেট করত। যেখানে চুরির সুযোগ ও সুবিধা সবচেয়ে বেশি মিলত, সেখান থেকেই অত্যন্ত সুকৌশলে তারা গাড়িগুলো উধাও করে দিত। হাওড়া গ্রামীণ এবং হাওড়া কমিশনারেট এলাকার বিভিন্ন প্রান্তেই মূলত তাদের অপরাধের জাল ছড়ানো ছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ১৩টি বাইকের আসল মালিকদের চিহ্নিতকরণের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। কোন কোন থানা এলাকা থেকে এই গাড়িগুলো চুরি হয়েছিল এবং এই চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোরকদমে চলছে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ।