নিজস্ব সংবাদদাতা:সমাজমাধ্যমে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের একটি পোস্টে ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দের ব্যবহার ঘিরে বিতর্কে কড়া অবস্থান নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই পোস্ট সংশোধন বা প্রত্যাহার না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ওই মন্তব্যে বহু মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। তার স্পষ্ট বক্তব্য, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন।একই সঙ্গে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনায় সরকারের কোনও সমর্থন নেই বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার বক্তব্য, ঘটনাটি জানার পরেই পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বিকাশবাবু অভিযোগ জানালে তার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে এবং অভিযোগ না জানালেও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে পদক্ষেপ করতে পুলিশকে বলা হয়। সেই সূত্রেই সংশ্লিষ্ট ঘটনায় বাপ্পা গুছাইত নামে এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সমাজমাধ্যমের পোস্ট প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, যে ভারতবর্ষকে ‘হিন্দুস্তান’ বলা হয়, সেখানে ‘হিন্দুত্ববাদী’ শব্দ ব্যবহার করে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন? মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই শব্দের ব্যবহারে বহু হিন্দু মানুষের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পোস্টটি সংশোধন বা প্রত্যাহার করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সাংবাদিক বৈঠকে তার বক্তব্য শোনার পর নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পোস্টটি সংশোধন বা তুলে না নেওয়া হলে সরকার আইন মেনেই ব্যবস্থা নেবে। তার বক্তব্য, পেশাগত পরিচয়কে সামনে রেখে বারবার হিন্দুদের আক্রমণ করা চলতে পারে না। তবে এই মন্তব্য ঘিরে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে কোনও তথ্য সামনে আসেনি। বিরোধীদের উদ্দেশেও অতীতের বাম আমলের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার দাবি, বর্তমান সরকার অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাড়িতে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ করেছে। একই ভাবে সমাজমাধ্যমের পোস্ট নিয়েও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সংশোধন বা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তিনি। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপ এবং তার সমাজমাধ্যমের পোস্ট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা -দুই বিষয়কে ঘিরেই নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।