ফারাক্কায় মিড ডে মিল খেয়ে অসুস্থ ১১ ছাত্রী, আতঙ্ক রঘুনাথপুরে
অভিজিৎ মন্ডল (ফারাক্কা): মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা ব্লকের বেনিয়াগ্রাম পঞ্চায়েতের রঘুনাথপুর ৯২ নম্বর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ল বহু পড়ুয়া। বুধবার সোয়াবিনের তরকারি খাওয়ার পরেই পড়ুয়াদের মধ্যে তীব্র বুক ও পেট জ্বালা এবং বমি বমি ভাব দেখা দেয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোজ কুমার রায় জানান, বুধবার তাদের বিদ্যালয়ে মোট ৯১ জন পড়ুয়া মিড ডে মিলের খাবার খেয়েছিল। এর মধ্যে ১১ জন বালিকা অসুস্থ বোধ করে। তাদের গলায় জ্বালা, বমি ভাব এবং পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয়দের তৎপরতায় সঙ্গে সঙ্গে পার্শ্ববর্তী চিকিৎসাকেন্দ্রে যোগাযোগ করা হয় এবং দ্রুত গাড়ি করে অসুস্থ পড়ুয়াদের বেনিয়াগ্রাম স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রধান শিক্ষক মনোজ কুমার রায় আরও জানান, তার ১৮ বছরের শিক্ষকতার জীবনে এমন ঘটনা এই প্রথম ঘটল। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেদিকে তিনি বিশেষভাবে নজর রাখবেন। পাশাপাশি রান্নার মান ও পরিষ্কার -পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে অভিভাবক ও রাঁধুনিদের আরও সতর্ক থাকার কথা বলেন তিনি।
অন্যদিকে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলে মিড ডে মিলের খাবারের মান দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত নিম্নমানের। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী জানায়, তরকারি খাওয়ার পর থেকেই বুকে ও পেটে প্রবল যন্ত্রণা হতে থাকে। অভিভাবক সীমা হালদার সহ অন্যান্যদের অভিযোগ, চাল বা শাকসবজি সঠিকভাবে পরিষ্কার না করেই অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্না করা হয়। রাঁধুনিদের গাফিলতি এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকেই এই ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।
এদিকে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে স্থানীয় নেতৃত্ব। পুরো বিষয়টি ইতিমধ্যেই ফারাক্কার বিডিও-কে ফোন করে জানানো হয়েছে এবং অবিলম্বে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সমস্ত পড়ুয়াই এখন সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্থিতিশীল রয়েছে বলে প্রধান শিক্ষক নিশ্চিত করেছেন।