গভীর রাতে খেমাশুলি ও সরডিহা স্টেশনের মাঝামাঝি রাজাবাঁধ এলাকায় রেললাইনে নাশকতার জেরে লাইনচ্যুত হয় ট্রেনটি। পরে উল্টো দিক থেকে আসা একটি মালগাড়ির সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়। সরকারি হিসাবে ওই ঘটনায় ১৪৯ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ২১ জনের দেহ এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রসেনজিৎ তাদেরই একজন। দুর্ঘটনার পরে প্রসেনজিতের দেহ পরিবারের হাতে ওঠেনি।পরে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষাতেও পরিবারের নমুনার সঙ্গে কোনও মিল পাওয়া যায়নি। ফলে এত বছর পরেও তার মৃত্যুর শংসাপত্র পায়নি পরিবার। অথচ রেলের নথি বলছে, দুর্ঘটনার পরে ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা দেওয়া হয়েছিল। ২০১০ সালে প্রথমে ২৫ হাজার টাকা এবং ১০ অগস্ট আরও ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা—মোট পাঁচ লক্ষ টাকা প্রসেনজিতের স্ত্রী যূথিকা আটাকে দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের তরফেও তিন লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছিল পরিবার। কিন্তু মৃত্যুর শংসাপত্র না থাকায় পরবর্তী নানা প্রশাসনিক ও আর্থিক সুবিধা নিয়ে জটিলতা থেকেই যায়। সেই শংসাপত্রের জন্য যূথিকা তৎকালীন অবিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার এবং ঝাড়গ্রাম পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেন। তখনও ঝাড়গ্রাম পৃথক প্রশাসনিক জেলা হয়নি। দীর্ঘদিন ঘোরাঘুরির পর ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর ঝাড়গ্রাম দেওয়ানি আদালতে ‘সিভিল ডেথ ডিক্লেয়ারেশন’-এর মামলা করেন তিনি। এর মধ্যেই ২০২২ সালের ৩ এপ্রিল যূথিকার মৃত্যু হয়। মামলার হাল ধরেন প্রসেনজিতের মা বুলা আটা। পরে ২০২৩ সালের ১৩ মে সাবালিকা হয়ে মামলায় যুক্ত হন প্রসেনজিৎ-যূথিকার মেয়ে পৌলমি। বর্তমানে তার বয়স ২১। তীর্থঙ্কর ভকতের বক্তব্য, রেলের তরফে মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার তথ্য আদালতে পেশ হওয়া মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এত বছর পরেও পরিবারকে মৃত্যুর শংসাপত্রের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশাসনের বিষয়টি দেখা উচিত ছিল। সমন পেয়েও সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের আদালতে হাজির না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক।