এক ঝলক
টাকি পুরসভার ২০ কোটির দুর্নীতিতে তদন্ত করবে সিআইডি ডেঙ্গু নজরদারিতে জোর, নতুন নির্দেশিকা স্বাস্থ্যভবনের বকেয়া গাড়ির কর মেটাতে সর্বোচ্চ ৪০% ছাড়ের পথে রাজ্য মেদিনীপুরে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় মন্ত্রী-প্রশাসনের আধিকারিকরা শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বিধানসভায় যাব না : হুমায়ুন

জ্ঞানেশ্বরী নাশকতায় নিখোঁজ প্রসেনজিতের মৃত্যু-স্বীকৃতির মামলায় রেলের নথি

স্বপ্নীল মজুমদার (ঝাড়গ্রাম): ষোলো বছর আগের জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় নিখোঁজ প্রসেনজিৎ আটার পরিবারকে রেলের দেওয়া ক্ষতিপূরণের নথি এ বার উঠল ঝাড়গ্রাম দেওয়ানি আদালতের মামলার নথিতে। মঙ্গলবার শুনানিতে আদালতের সমন মেনে হাজির হন খড়্গপুর ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে কমার্শিয়াল ম্যানেজারের প্রতিনিধি কে, ঝা। রেলের আইনজীবী সুমন সেন ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত নথি জমা দেন। প্রসেনজিতের আইনত মৃত্যুর স্বীকৃতি চেয়ে চলা মামলায় এই নথি পেশ হওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করছেন তার মেয়ে পৌলমির আইনজীবী তীর্থঙ্কর ভকত। ২৭ মে ২০১০। রাতে হাওড়া স্টেশন থেকে মুম্বইয়ের উদ্দেশে আপ জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন সালকিয়ার বাসিন্দা প্রসেনজিৎ আটা। ট্রেনের এস-৩ কামরায় তার আপার বার্থ ছিল ২৭ নম্বর। অনলাইনে কাটা সেই টিকিটের পিএনআর নম্বর ৬২৪২৪৩৬৩৫০। কিন্তু গন্তব্যে আর পৌঁছননি তিনি।
Ganamadhyam
08 October, 2026
গভীর রাতে খেমাশুলি ও সরডিহা স্টেশনের মাঝামাঝি রাজাবাঁধ এলাকায় রেললাইনে নাশকতার জেরে লাইনচ্যুত হয় ট্রেনটি। পরে উল্টো দিক থেকে আসা একটি মালগাড়ির সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়। সরকারি হিসাবে ওই ঘটনায় ১৪৯ জনের মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে ২১ জনের দেহ এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রসেনজিৎ তাদেরই একজন। দুর্ঘটনার পরে প্রসেনজিতের দেহ পরিবারের হাতে ওঠেনি।পরে উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের ডিএনএ পরীক্ষাতেও পরিবারের নমুনার সঙ্গে কোনও মিল পাওয়া যায়নি। ফলে এত বছর পরেও তার মৃত্যুর শংসাপত্র পায়নি পরিবার। অথচ রেলের নথি বলছে, দুর্ঘটনার পরে ক্ষতিপূরণ বাবদ টাকা দেওয়া হয়েছিল।
২০১০ সালে প্রথমে ২৫ হাজার টাকা এবং ১০ অগস্ট আরও ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা—মোট পাঁচ লক্ষ টাকা প্রসেনজিতের স্ত্রী যূথিকা আটাকে দেওয়া হয়। রাজ্য সরকারের তরফেও তিন লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছিল পরিবার। কিন্তু মৃত্যুর শংসাপত্র না থাকায় পরবর্তী নানা প্রশাসনিক ও আর্থিক সুবিধা নিয়ে জটিলতা থেকেই যায়। সেই শংসাপত্রের জন্য যূথিকা তৎকালীন অবিভক্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার এবং ঝাড়গ্রাম পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করেন। তখনও ঝাড়গ্রাম পৃথক প্রশাসনিক জেলা হয়নি। দীর্ঘদিন ঘোরাঘুরির পর ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর ঝাড়গ্রাম দেওয়ানি আদালতে ‘সিভিল ডেথ ডিক্লেয়ারেশন’-এর মামলা করেন তিনি।
এর মধ্যেই ২০২২ সালের ৩ এপ্রিল যূথিকার মৃত্যু হয়। মামলার হাল ধরেন প্রসেনজিতের মা বুলা আটা। পরে ২০২৩ সালের ১৩ মে সাবালিকা হয়ে মামলায় যুক্ত হন প্রসেনজিৎ-যূথিকার মেয়ে পৌলমি। বর্তমানে তার বয়স ২১। তীর্থঙ্কর ভকতের বক্তব্য, রেলের তরফে মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার তথ্য আদালতে পেশ হওয়া মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এত বছর পরেও পরিবারকে মৃত্যুর শংসাপত্রের জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশাসনের বিষয়টি দেখা উচিত ছিল। সমন পেয়েও সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের আদালতে হাজির না হওয়া দুর্ভাগ্যজনক।
ই-পেপার