এবার সেই ছবিতে বদল আনতে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানকে নতুন গতি দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার।সুন্দরবন অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন, আবাসন এবং স্থানীয় স্তরে স্থায়ী কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে সোনারপুরে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক করলেন রাজ্য পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত এই পর্যালোচনা বৈঠকে উঠে এল কর্মসংস্থান বৃদ্ধি থেকে শুরু করে আবাস যোজনার কাজ দ্রুত শেষ করার একাধিক রূপরেখা। ভৌগোলিক বাধা কাটিয়ে আবাস যোজনার সমীক্ষা দ্রুত শেষ করার নির্দেশ
সোনারপুরের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রী জানান, সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ নদী, খাঁড়ি ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ৩০০-রও বেশি পঞ্চায়েতে সরকারি কাজের বাস্তবায়ন ভৌগোলিক কারণে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। দুর্গম বহু দ্বীপে একমাত্র ভরসা নৌপথ। এই কারণেই সমস্ত এলাকায় এখনও পর্যন্ত আবাস যোজনার সমীক্ষার কাজ সম্পূর্ণ করা যায়নি। তবে প্রশাসন ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গতি বাড়িয়ে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যেই সুন্দরবনের সমস্ত দুর্গম এলাকা সহ দুই জেলার আবাস যোজনার সমীক্ষার কাজ শেষ করে প্রকৃত উপভোক্তাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।"
দুর্নীতির দিন শেষ, পরিচ্ছন্ন পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় গতি
বৈঠকে মন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, বিগত দিনে পঞ্চায়েত স্তরে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই উন্নয়নের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়েছিল এবং কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রশাসন কাঠামোগত স্বচ্ছতা ও আধুনিকীকরণের ওপর জোর দেওয়ায় সেই জটিলতা কাটতে শুরু করেছে।আগামী আগস্ট মাসের পর থেকেই থমকে থাকা নানা কাজ ও নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের গতি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
ভিনরাজ্যে প্রয়াণ রোধে ৩০০-র বেশি নতুন প্রকল্প সুন্দরবন এলাকার মানুষ যাতে কাজের খোঁজে নিজের ভিটেমাটি ও পরিবার ছেড়ে অন্য রাজ্যে যেতে বাধ্য না হন, তার জন্য সরকারের মাস্টারপ্ল্যান তুলে ধরেন মন্ত্রী। পঞ্চায়েতের মাধ্যমে স্থানীয় স্তরেই ৩০০টিরও বেশি নতুন প্রকল্প রূপায়ণ করা হচ্ছে। এই সমস্ত নতুন প্রকল্পে স্থানীয় দক্ষ ও অদক্ষ—উভয় ধরনের কর্মী এবং শ্রমজীবীরা কাজের সুযোগ পাবেন। গ্রামীণ কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করতে কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। এর ফলে প্রান্তিক পরিবারগুলির আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হবে।প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ নজর
প্রতি বছর ঝড়-জল-নদী ভাঙনে সুন্দরবনের যে পরিকাঠামোগত ক্ষতি হয়, তা পূরণে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দুই জেলার আধিকারিকদের। বসতি রক্ষা, যাতায়াতের সুগম রাস্তা, পানীয় জলের বন্দোবস্ত এবং দুর্যোগ সহনশীল আবাসন গড়ে তোলাকে প্রশাসনের প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। বৈঠকের শেষ পর্বে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার পঞ্চায়েত আধিকারিকদের সাথে পৃথক পৃথক আলোচনা করেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। প্রতিটি ব্লকের সমস্যা শুনে দ্রুত প্রশাসনিক সমাধানের বার্তা দিয়ে তিনি জানান, সুন্দরবনের প্রান্তিক মানুষের কাছে সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়া এবং পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনাই রাজ্য সরকারের মূল অঙ্গীকার।