এক ঝলক
শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে এনসিপিআই সাংসদরা, ৩জন না থাকায় জল্পনা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানোর দাবি : বিধায়ক দীপাঞ্জনের শেখ হাসিনাকে ফিরতে দেওয়া হোক বার্তা তসলিমার গ্রেফতার স্ট্যালিন-পুত্র, পরে জামিন মাঝআকাশে বিপত্তি, আহত বিমানকর্মী সহ অন্তত ১৪ জন

শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকে এনসিপিআই সাংসদরা, ৩জন না থাকায় জল্পনা

নিজস্ব সংবাদদাতা: তৃণমূলত্যাগী ২০ জন সাংসদ বিজেপির সঙ্গে মিশে যাবে কি না, এই নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, সেই সময়েই দিল্লিতে তাদের সঙ্গে বৈঠক করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
Ganamadhyam
05 August, 2026

মঙ্গলবার দুপুরে  দিল্লির বঙ্গভবনে এই বৈঠক হয়।  রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তাদের সংসদীয় এলাকার কী ভাবে উন্নয়ন করা যায়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে বলে  দাবি করেছেন এনসিপিআই সাংসদেরা। এনসিপিআই কি বিজেপির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে, এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও সাংসদদের কেউই তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। এদিন বঙ্গভবনে প্রায় দেড়ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই বৈঠক হয়। যেখানে একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। এমনকী আবু তাহের, খলিলুর রহমান এবং পাঠানের সঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী আলাদাভাবে কথা বলেছেন বলে খবর। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ছাড়াও মঙ্গলবারের বৈঠকে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। বঙ্গভবনের বৈঠকে মোট ২২ জন সাংসদ ছিলেন। তাদের মধ্যে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়-সহ ১৯ জন এনসিপিআই সাংসদ ছিলেন। এ ছাড়াও বৈঠকে হাজির ছিলেন তৃণমূলত্যাগী রাজ্যসভার তিন বিজেপি সাংসদ শুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী জানান, এনসিপিআই বা দলীয় রাজনীতি নিয়ে নির্দিষ্ট ভাবে কোনও আলোচনা হয়নি। মূলত এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তার কথায়,  বৈঠক খুব ভাল হয়েছে। ফলপ্রসূ হয়েছে। আগামী দিনে আমরা নবান্নে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে বৈঠক করব’।  বৈঠক শেষে মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদার বলেন, ‘এনসিপিআই এনডিএকে আগেই সমর্থন করেছে। তিনজন সাংসদের নিজস্ব কিছু সমস্যা ছিল। তারা সমস্ত কিছু মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। পরিস্কারভাবে কথা হয়েছে। তারা আমাদের সঙ্গেই আছেন’।  এর আগে মঙ্গলবার সকালে এনডিএ’র  বৈঠক হয়।  সেই  বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে প্রথম সারিতেই বসে থাকতে দেখা যায় উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বৈঠকে যোগ দেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ অন্যান্য এনসিপিআই সাংসদদেরও। তবে এনডিএ’র বৈঠকে গরহাজির ছিলেন  মুর্শিদাবাদের আবু তাহের, জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান এবং বহরমপুরের ইউসুফ পাঠান। এই তিন সাংসদকে নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই জল্পনা চলছে। জল্পনা এই যে, তারা কালীঘাট তৃণমূলে ফেরার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। মঙ্গলবার বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসকজোট এনডিএ-র ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে অন্য শরিক দলগুলির পাশাপাশি উপস্থিত ছিল এনসিপিআই-ও। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার পর গত মঙ্গলবার এনডিএ-র বৈঠকে যোগ দিতে পারেননি সুদীপ। তার পরিবর্তে বৈঠকে এনসিপিআই-কে নেতৃত্ব দেন লোকসভায় দলের মুখ্যসচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার। কাকলি সে দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একই সারিতে বসেছিলেন। মঙ্গলবার সুদীপও শাহ-মোদীদের সঙ্গে সামনের সারিতে বসেন। অন্য প্রান্তে সামনের সারিতে বসেছিলেন কাকলিও। দ্বিতীয় সারিতে বসে থাকতে দেখা যায় শতাব্দী রায়কে। তবে এর মধ্যেই এনসিপিআই-এর তিন সাংসদের অনুপস্থিতি নতুন জল্পনার ক্ষেত্র
প্রস্তুত করছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের নিয়ে গত সপ্তাহে নানা নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এনসিপিআইয়ে  যোগ দিলেও ২০ জন সাংসদের মধ্যে তিন জন সংখ্যালঘু সাংসদ ফের কালীঘাট –তৃণমূলের ছত্রচ্ছায়ায় ফিরতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে। যদিও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন জানান, এনসিপিআই সাংসদরা ভীষণ ভাবে সঙ্ঘবদ্ধ। প্রত্যেক মঙ্গলবার করে এনডিএ’র শরিক দলের বৈঠক একটি রুটিন প্রক্রিয়া। এনসিপিআই যেহেতু এনডিএ’র শরিক দলের অংশ, গত দু’সপ্তাহ ধরে তারাও অংশ নিচ্ছে।
ই-পেপার