এক ঝলক
অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে প্যাকেজ চুক্তি করতো বনগাঁর সাহাবুদ্দিন দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্টের চেষ্টা করলে রেয়াত করা হবে না‌ ঃ‌ প্রধানমন্ত্রী মুর্শিদাবাদের রেলগেট দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী নিট-কাণ্ডের বিক্ষোভে উত্তপ্ত সংসদ চত্বর আলোচনায় নারাজ সিজেপি, ফের আলোচনার প্রস্তাব কেন্দ্রের

অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে প্যাকেজ চুক্তি করতো বনগাঁর সাহাবুদ্দিন

সোমনাথ পাল (বনগাঁ): প্রথমে চোরা পথে অনুপ্রবেশ, তারপর বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভারতীয় জাল পরিচয় পত্র তৈরি করে দেশের একাধিক শহরে পৌঁছে দেওয়া। বিগত এক দশক ধরে এই ছিল তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য সাহাবুদ্দিন মণ্ডলের আসল কারবার। এই চক্রে সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে রয়েছে রাজ্য তথা দেশের একাধিক জায়গার এজেন্ট। গোয়েন্দা সূত্রে খবর এমনটাই । ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা গ্রামে বসে অনুপ্রবেশের রমরমা কারবার চালাচ্ছিল সাহাবুদ্দিন ও তার সহযোগীরা । চলতি বছর মে মাসে উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁর ভিড়া গ্রামের সাহাবুদ্দিন কে অস্ত্র আইনে গ্রেফতার করে বনগাঁ থানার পুলিশ। এরইমধ্যে পুলিশি হেফাজতে থাকা অনুপ্রবেশ সিন্ডিকেটের মাথা সাহাবুদ্দিনকে নিজেদের হেফাজতে নেয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ। সম্প্রতি উত্তর প্রদেশ পুলিশের অপরাধ দমন শাখার হাতে ধরা পড়া ১৩ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে কারাদণ্ড দিয়েছে উত্তর প্রদেশ আদালত। এর ভিত্তিতেই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে দেশের একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালায় এনআইএ। জানা গিয়েছে ধৃত ওই বাংলাদেশিদের জেরা করে উঠে আসে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের বনগাঁ বাগদা ও ওই এলাকার অনুপ্রবেশের কিংপিং সাহাবুদ্দিনের নাম।
Ganamadhyam
24 July, 2026
এরপরই অনুপ্রবেশ সিন্ডিকেটের হোতা সাহাবুদ্দিন সহ অনুপ্রবেশকারী চক্রের খোঁজে জোরদার তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। কিন্তু কে সাহাবুদ্দিন ? জানা গিয়েছে, বনগাঁর ঘাটবাঁওর পঞ্চায়েতের ভিড়া রামচন্দ্রপুর গ্রামে বরাবরই প্রভাব প্রতিপত্তি দুই'ই রয়েছে সাহাবুদ্দিনের। থাকাই স্বাভাবিক। এলাকায় রাজনৈতিক দাপটের পাশাপাশি তার অর্থের সঙ্গতিও চোখে পড়ার মতো। গ্রামে ছোট ব্যবসা চালানোর পাশাপাশি, বৈদেশিক মুদ্রা কেনা-বেচার ব্যবসাও রয়েছে সাহাবুদ্দিনের। এর পাশাপাশি মাদক কারবারে সিদ্ধ হস্ত সাহাবুদ্দিন।গোয়েন্দাদের দাবি, এই ভিড়া গ্রামেরই বাসিন্দা দুখে ওরফে হারুন রশিদ, বাগদার রনঘাট এলাকার বাসিন্দা খয়রুল, রানা এবং আজহারুল, হাওড়ার রাজু এবং নদিয়ার দত্তফুলিয়ার বাসিন্দা রাশেদ— এরা সকলেই এই সিন্ডিকেটের সদস্য। তদন্তকারীদের দাবি ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের বেশ কিছু জায়গায় এখনও ব্ল্যাকস্পট অর্থাৎ কাঁটাতার বিহীন রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে নদীপথও। আর এই পথকে হাতিয়ার করেই সীমান্তে অনুপ্রবেশকারী চক্র বেশ সক্রিয়। মূলত এই পথ দিয়েই সাহাবুদ্দিন ও তার এজেন্টরা প্রথমে অনুপ্রবেশ করাতো তারপর অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের জাল ভারতীয় পরিচয় তৈরি করিয়ে দেশের অন্য কোনও বড় শহরে পৌঁছে দেওয়ার হিসাবে অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে ‘প্যাকেজ’ চুক্তি করত এই সিন্ডিকেট। এই ইস্যুতে এবার বনগাঁ পুরসভা সহ বনগাঁ মহকুমার একাধিক পাঞ্চায়েতে জন্ম মৃত্যু শংসাপত্র রেজিস্টার খতিয়ে দেখল বনগাঁ থানার পুলিশ। স্থানীয় পঞ্চায়েতকে ব্যবহার করে কিভাবে চলত এই জাল প্রমাণ পত্র তৈরির কাজ। তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এ নিয়ে  বৃহস্পতিবার বনগাঁর ধর্ম পুকুরিয়া পঞ্চায়েত ও বনগাঁ পুরসভায় হানা দেয় বনগাঁ থানার পুলিশ।
ই-পেপার