আজ, বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে গিয়ে স্বজনহারা পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। সভামঞ্চে ওঠার আগেই সোজা শোকাহত পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে যান তিনি, শোনেন তাদের সমস্ত অভিযোগ ও সমস্যার কথা এবং পাশে থাকার কড়া আশ্বাস দেন। এদিন সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ছোট ফুলের মতো বাচ্চাগুলো যেভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, তা অত্যন্ত মর্মান্তিক। দুঃখপ্রকাশের ভাষা নেই। অর্থ দিয়ে এই ক্ষতি পূরণ হয় না। তবে সরকারের দায়িত্ব রয়েছে, সরকার তা পালন করছে। আমার ব্যক্তিগতভাবে চোখের জল ছাড়া আর কিছু দেওয়ার নেই। পাশাপাশি, রাজ্যের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারগুলির হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়।ঘটনার নেপথ্যে রেলের গেটম্যানের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক তদন্তের পর রেল ও পুলিশ আমাকে জানিয়েছে, গেটম্যানের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। আমি কথা দিচ্ছি, দোষী কঠোরতম শাস্তি পাবে।" এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলি ব্যক্তিগতভাবে তার কাছে কিছু দাবি জানালে তিনি তা পূরণের দায়িত্ব নেন। সভা শেষে কর্ণসুবর্ণের হাসপাতালে ও মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুর্ঘটনায় জখমদের দেখতে যান তিনি। প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুলাই মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে রেল গেট খোলা থাকা অবস্থাতেই হঠাৎ চলে আসে একটি দ্রুতগামী ট্রেন। সেই সময় রেললাইন পার হচ্ছিল একটি পুলকার ও সাইকেল। ট্রেনটির আকস্মিক ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই চার শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়, এবং গুরুতর জখম হন বেশ কয়েকজন। তদন্তে জানা যায়, ঘটনার সময় গেটম্যান মদ্যপ ও নেশাগ্রস্ত থাকায় রেলগেট নামাতে ভুলে গিয়েছিলেন। জনরোষ ও প্রাথমিক তদন্তের পরই অভিযুক্ত গেটম্যানকে তৎক্ষণাৎ সাসপেন্ড করা হয় এবং বহরমপুর থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।