পর্যটনের প্রসার থেকে লোধা-শবর তহবিলের তদন্ত, দাবি ঝাড়গ্রাম বিধায়কের
স্বপ্নীল মজুমদার(ঝাড়গ্রাম): ঝাড়গ্রামকে পর্যটনের মানচিত্রে আরও গুরুত্ব দিয়ে গড়ে তোলা, জঙ্গলমহলের পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন, হোমস্টে বাড়ানো থেকে শুরু করে লোধা-শবর উন্নয়ন পর্ষদের তহবিলের ব্যবহার নিয়ে তদন্তের দাবি— রাজ্যের বাজেট অধিবেশনে বিধানসভায় একাধিক বিষয় তুলে ধরলেন ঝাড়গ্রামের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ।
পর্যটন দফতরের অনুদানের দাবির উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রায় পাঁচ মিনিটের বক্তব্য রাখেন তিনি। তার বক্তব্যের শুরুতেই ঝাড়গ্রামকে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র বলে উল্লেখ করেন বিধায়ক। তবে তার দাবি, স্বাধীনতার আট দশক পরেও জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো প্রত্যাশিত মানে পৌঁছয়নি। বিশেষ করে বিভিন্ন পর্যটনস্থলে শৌচালয়ের অভাব ও দুরবস্থার কারণে মহিলা ও প্রবীণ পর্যটকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে ঝাড়গ্রামে টাইগার সাফারি তৈরির জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান লক্ষ্মীকান্ত। তার মতে, এই প্রকল্প জঙ্গলমহলের পর্যটনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে আরও কাজে লাগাতে ঝাড়গ্রাম ও লালগড়ের রাজবাড়ি এবং সংলগ্ন অরণ্যকে যুক্ত করে একটি হেরিটেজ ও ইকো-ট্যুরিজম হাব গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি। এতে জঙ্গলমহলের ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলেও তার মত। বিধায়ক কংসাবতী নদীর বৈতা ও সাতপাটি এলাকায় নৌবিহার চালুর দাবি জানান। পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম পৌরসভাকে ‘পর্যটন নগরী’ হিসেবে ঘোষণা করে পৃথক আর্থিক বরাদ্দ দেওয়ার আবেদন জানান পর্যটনমন্ত্রীর কাছে। তার বক্তব্য, ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী হওয়ায় ঝাড়গ্রামে আন্তঃরাজ্য পর্যটনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে হোমস্টে সংখ্যা বাড়ানো, পর্যটন কেন্দ্রগুলির সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং প্রয়োজনে সরকারি- বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) নতুন প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাবও দেন তিনি।গোপীবল্লভপুরের হাতিবাড়ি এলাকায় পর্যটন ও নৌবিহারের আরও প্রসারের পক্ষেও সওয়াল করেন। বক্তব্যের শেষ অংশে লোধা-শবর উন্নয়ন পর্ষদের তহবিল নিয়ে সরব হন ঝাড়গ্রামের বিধায়ক। তার অভিযোগ, কেন্দ্রের পাঠানো কোটি কোটি টাকার যথাযথ ব্যবহার হয়নি। সেই অর্থের অপব্যবহার হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে লক্ষ্মীকান্ত বলেন, এখনও বহু লোধা-শবর পরিবার চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বাজেট- আলোচনায় ঝাড়গ্রামের পর্যটন সম্ভাবনা এবং প্রান্তিক জনজাতির উন্নয়নের প্রশ্ন তুলে ধরেই নিজের বক্তব্য শেষ করেন বিধায়ক।