বৃহস্পতিবার তিনি মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণে গিয়ে পুলকার দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। প্রত্যেক পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্যের চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি, পরিবারের এক জনকে চাকরির আশ্বাসও দিয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত গেটম্যানকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তার কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে মৃতদের পরিবারকে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বজনহারা পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা ও আহতদের পরিবারপিছু ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত ১৭ জুলাই কর্ণসুবর্ণে রেলগেট ধরে লাইন পার হওয়ার সময় পুলকারে ধাক্কা মেরেছিল ট্রেন। তাতে চার শিশু এবং এক সাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দু’জন। বৃহস্পতিবার শোকতপ্ত সেই পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি অনেক ব্যথাতুর হৃদয় নিয়ে এখানে এসেছি। ছোট্ট ছোট্ট ফুলের মতো বাচ্চাগুলো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। দুঃখপ্রকাশের ভাষা আমার জানা নেই। পরিবারগুলোর পাশে আছি। অর্থ দিয়ে এই ক্ষতিপূরণ হয় না। যে অর্থ দিয়েছি, সরকারি অর্থ, আমার নয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সকল গ্রামবাসীদের বলব, এই পরিবারগুলির প্রতি লক্ষ্য-নজর রাখবেন। এই পরিবারগুলি যাতে কোনওভাবে একাকীত্ব অনুভব না করে, তা লক্ষ্য রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব। যেমন প্রশাসন নজর রাখবে, তেমনই আপনারা সকলে নজর রাখবেন। আমরা অনেক চেষ্টা করেছি আহতদের সকলকে বাঁচানোর জন্য। পারিনি সকলকে বাঁচাতে। দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ঘটনা এড়ানো যেত। প্রাথমিক তদন্তে রেল ও পুলিশ আমাকে জানিয়েছে, গেটম্যান দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো কাজ করেছে। আইন অনুযায়ী তার চূড়ান্ত শাস্তি হবে। এটা ক্ষমার অযোগ্য। অভিযুক্ত জেলে থাকাকালীনই তদন্ত শেষ করে পুলিশকে চার্জশিট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আমি পুলিশকে বলেছি, কাস্টডি ট্রায়াল করিয়ে গেটম্যানের সর্বোচ্চ শাস্তি যাতে হয়, তা দেখতে হবে। পুলিশ আর স্থানীয় বিধায়ককে সেই দায়িত্ব দিয়ে গেলাম। দুর্ঘটনায় চিকিৎসাধীন দু’জনকে দেখতে হাসপাতালেও গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।পুলকার দুর্ঘটনায় একমাত্র পুত্র ইশানুর রহমানকে হারিয়েছেন আজিজা খাতুন। মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। আজিজার স্বামী কর্মসূত্রে সৌদি আরবে থাকেন। ছেলে হারানোর পর তিনি একা হয়ে পড়েছেন। স্বামীর জন্য এই রাজ্যেই কাজের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ১৫ দিনের মধ্যে তার স্বামীর চাকরির ব্যবস্থা করবেন বলে তাকে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মৃত জেসিকা শবনমের মা শেফালি খাতুন জানান, মেয়ে বড় হয়ে অনেক কিছু করতে পারত। মেয়েটাই শেষ হয়ে গেল। গেটম্যানের যেন কঠোর শাস্তি হয়। ইশানুর রহমানও এই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে। তার মা আজিজা খাতুন বলেন, স্যরকে হাত ধরে বললাম, আপনি তো সবই জানেন। তিনিও বললেন, আমার সান্ত্বনা দেওয়ার কোনও ভাষা নেই। আমি তোমার পাশে আছি’।