অভিযুক্ত বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্যাকে সাজা দেওয়ার নাম করে ‘ডিম থেরাপি’র হুঁশিয়ারি দেওয়া সেই অভিযোগকারী যুবককেই এবার গ্রেপ্তার করল পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের ঝাড়আলতা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে খবর, ঝাড়আলতা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব ডাউকিমারী এলাকার বিজেপির বিজয়ী পঞ্চায়েত সদস্যা জয়ারানি রায় এবং তার স্বামী সঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার জব কার্ডে প্রতারণামূলকভাবে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ ওঠে।অভিযোগ, আসল উপভোক্তাদের জব কার্ডে নাম ঢুকিয়ে বেআইনিভাবে সরকারি ঘরের তালিকার সার্ভে করানো ও সুবিধার জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন ওই সদস্যা। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে আনেন স্থানীয় বাসিন্দা দীপক রায়।
এরপরেই সন্দেহ হওয়ায় গ্রামের অন্যান্য বাসিন্দাদের জব কার্ড খাঁতিয়ে দেখতেই একে একে বেরিয়ে আসে একাধিক জালিয়াতির নমুনা। এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন গ্রামবাসী। ব্লক প্রশাসন বা বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পাশাপাশি এলাকায় জোরালো বিক্ষোভ কর্মসূচিও চালানো হয়।
তবে বিতর্কের সূত্রপাত হয় আন্দোলনের ধরন নিয়ে। অভিযোগকারী দীপক রায় হাতে ডিম নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, অভিযুক্ত সদস্যাকে এলাকা জুড়ে খুঁজে বের করে তিনি ‘ডিম থেরাপি’ বা ডিম ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানাবেন। দীপকবাবুর এই চরম হুঁশিয়ারির পরেই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যা।
আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই প্রবণতাকে অবশ্য হালকাভাবে নেয়নি প্রশাসন। বৃহস্পতিবার ধূপগুড়ি ব্লকের ডাউকিমারী ফাঁড়ির পুলিশ অভিযানে নেমে সেই অভিযোগকারী দীপক রায়কেই গ্রেপ্তার করে।ধৃতকে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, আইন সবার জন্য সমান। মূল অভিযোগের তদন্ত নিজস্ব নিয়মে চলবে, কিন্তু ডিম ছোঁড়া বা থেরাপির নামে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো হুমকি কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না—তিনি যে রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই যুক্ত থাকুন না কেন। এদিকে পুরো ঘটনায় অস্বস্তিতে বিজেপি শিবির। যদিও জব কার্ডের জালিয়াতি সংক্রান্ত মূল অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া জারি রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ঝাড়আলতা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সরস্বতী রায় জানান, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। পঞ্চায়েত ও প্রশাসনিক স্তরে নিখুঁত তদন্ত চলছে। সব মিলিয়ে, পঞ্চায়েতের দুর্নীতি আর ডিম থেরাপির এই অদ্ভুত লড়াইয়ে ধূপগুড়ির রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্যা আসলে দোষী কি না, আর অভিযোগকারীর এমন অভিনব প্রতিবাদের ভবিষ্যৎ কী হয়—এখন সেদিকেই তাকিয়ে ডাউকিমারীর বাসিন্দারা।