এতে ক্ষতিগ্রস্থ হয় হাজার হাজার মানুষ। কৃষিজমি, ঘরবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়। সেই পরিস্থিতির আগাম সর্তকতা হিসেবে মঙ্গলবার সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে কংসাবতী নদীর বাঁধ ও ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করলেন ডেবরার বিধায়ক শুভাশীষ ওম।
এদিন তিনি সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কুচলী, শালডহরি, হরিদ্রাপাঠ-সহ কংসাবতী নদীর তীরবর্তী একাধিক এলাকা ঘুরে দেখেন। বাঁধের বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যা, আশঙ্কা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন। কোথায় বাঁধ দুর্বল, কোথায় নদী ভাঙনের আশঙ্কা বেশি এবং কোথায় দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজন, সেসব বিষয়ও আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। ডেবরা ব্লকের মোট ১৪টি অঞ্চলের মধ্যে গোলগ্রাম, মলিহাটি, ভরতপুর, ভবানীপুর ও ষাঁড়পুর অঞ্চল প্রতিবছরই বন্যার জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে মলিহাটি অঞ্চলের শ্রীপুর, বসন্তপুর, জয়দেবপুর, নরহরিপুর, চক অনন্ত ও বড়মাধবপুর, গোলগ্রাম অঞ্চলের খাজুরি, বিহারীচক ও চকপ্রয়াগ, চকপলমল, টাঙ্গাশ্রী-সহ ভরতপুর এবং ভবানীপুর অঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বর্ষাকালে জলের তলায় চলে যায়। ফলে কৃষিজ ফসলের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি বহু পরিবারের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক সময় গ্রামগুলির সঙ্গে মূল সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, যার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পরিষেবা ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে হয়।
ইতিমধ্যেই ডেবরা ব্লকের টাবাগেড়্যা এলাকায় কংসাবতী নদীর উপর নির্মিত অস্থায়ী বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় মানুষের যাতায়াতে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে নদীর উপর একটি অস্থায়ী সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিধায়ক শুভাশীষ ওম। পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান। পরিদর্শন শেষে বিধায়ক শুভাশীষ ওম বলেন, বর্ষাকালে কংসাবতী নদীতে জলস্তর বৃদ্ধি পেলেই ডেবরা ব্লকের একাধিক এলাকা প্লাবিত হয়। মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষার স্বার্থে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তাই বর্ষার শুরুতেই সেচ দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে নদী বাঁধের অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। কোথাও যাতে বাঁধ ভেঙে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের লক্ষ্য শুধুমাত্র বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া নয়, বরং সম্ভাব্য বিপর্যয়কে আগাম প্রতিরোধ করা। এজন্য ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলিতে নিয়মিত নজরদারি, বাঁধ মেরামত, জরুরি অবকাঠামো প্রস্তুত রাখা এবং প্রয়োজনে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থার পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা, বর্ষার আগেই নদী বাঁধের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পন্ন হলে এ বছর বন্যার ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। প্রশাসনের এই আগাম উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।