এক ঝলক
১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ভারতে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকেই বৈধ নাগরিক ঃ জ্ঞানেশ কুমার চারটি পৃথক শহীদ দিবস, একুশে জুলাই নিয়ে দড়ি টানাটানি অব্যহত দলত্যাগীরা তৃনমূলে ফিরলে এক ঘন্টার মধ্যে ইস্তফা দেব ঃ অভিষেক সীমান্তে অমিত শাহ রামায়ণ’ নিয়ে বোমা ফাটালেন অন্নু কাপুর

এক বছর পরও স্মরণে তারা, বাঁশতলায় ট্রেনে কাটা পড়া তিন হাতির স্মরণে পূজা

স্বপ্নীল মজুমদার( ঝাড়গ্রাম): এক বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু সেই রাতের বিভীষিকা এখনও ভুলতে পারেননি বাঁশতলার মানুষ।
Ganamadhyam
19 July, 2026
ট্রেনের ধাক্কায় তিনটি হাতির মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনার প্রথম বর্ষপূর্তিতে শনিবার দুর্ঘটনাস্থলের পাশেই নিহত হাতিদের স্মরণে পূজা ও শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। রেললাইনের ধারে একটি শালগাছের তলায় একটি হস্তিশাবক-সহ তিনটি হাতির মাটির মূর্তি স্থাপন করে প্রার্থনা করা হয়। একটাই আবেদন— আর যেন কোনও হাতিকে এ ভাবে প্রাণ হারাতে না হয়।
গত বছরের ১৮ জুলাই গভীর রাতে ঝাড়গ্রাম জেলার বাঁশতলা এলাকায় প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি হাতির একটি দল চিরাচরিত করিডোর ধরে রেললাইন পার হচ্ছিল। বন দফতরের হুলা পার্টির সদস্যেরা হাতির দলটিকে নিরাপদে জঙ্গলের দিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তারা অভিযান শুরু করার আগেই হাতির দলটি স্বাভাবিকভাবেই রেললাইন পারাপার শুরু করে। ঠিক সেই সময় রাত প্রায় ১টা নাগাদ খড়্গপুর–টাটানগর রেল ডিভিশনের বাঁশতলা স্টেশন সংলগ্ন এলাকা দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে আসে ডাউন জন শতাব্দী এক্সপ্রেস। মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের ধাক্কায় একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী হাতি, একটি হস্তিশাবক-সহ মোট তিনটি হাতির মৃত্যু হয়। সেই দুর্ঘটনা শুধু তিনটি বন্যপ্রাণের মৃত্যু নয়, গোটা জঙ্গলমহলকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। হাতির করিডোরে ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা, গতিনিয়ন্ত্রণ এবং বন ও রেলের সমন্বয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছিল। রেলও দুঃখ প্রকাশ করেছিল। উপায় ছিল না বাঁচানোর। সেই বেদনাদায়ক স্মৃতিকেই জীবন্ত রেখে শনিবারের এই আয়োজন। পূজার পাশাপাশি নিহত হাতিদের উদ্দেশে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন ও প্রার্থনা করেন গ্রামবাসীরা। দুর্ঘটনাস্থলের পাশে কিছুক্ষণ নীরবতাও পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাঁশতলা গ্রামের নারী-পুরুষ, প্রবীণ, যুবক- যুবতী-সহ বহু মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
গ্রামবাসীদের কথায়, মানুষের মতো হাতিরও নিরাপদে বাঁচার অধিকার রয়েছে। তাই হাতির করিডোরগুলিতে আরও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ট্রেনের গতিনিয়ন্ত্রণ এবং বন ও রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোই ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রুখতে একমাত্র পথ। এক বছর আগের সেই রাতের স্মৃতি যেন আর কোনও দিন নতুন করে ফিরে না আসে— এই প্রার্থনাই ছিল এ দিনের অনুষ্ঠানের মূল সুর।
ই-পেপার