লালগড় থানার বৈতা অঞ্চলের আগুইশোল গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জীব মাহাত রাজ্য সরকারের বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমি-র অনূর্ধ্ব-১৯ প্রথম ডিভিশনে সুযোগ পেয়েছেন। ঝাড়গ্রাম পুলিশ ফুটবল অ্যাকাডেমির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই প্রতিভাবান ফুটবলারের সাফল্যে খুশির হাওয়া বইছে পরিবার থেকে শুরু করে গোটা এলাকায়। একই সঙ্গে জঙ্গলমহল থেকেও যে প্রতিভাবান ফুটবলার উঠে এসে বড় মঞ্চে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে, সেই বার্তাই যেন আরও একবার স্পষ্ট হল।
বর্তমানে সঞ্জীব গোহমিডাঙা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল তাঁর প্রবল আগ্রহ। গ্রামের মাঠে খেলতে খেলতেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়। পরে ঝাড়গ্রাম পুলিশ ফুটবল অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতে শুরু করেন। কঠোর অনুশীলন, শৃঙ্খলা এবং কোচদের নির্দেশ মেনে নিরলস পরিশ্রমই তাঁকে আজ এই সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে। ঝাড়গ্রাম পুলিশ ফুটবল অ্যাকাডেমির প্রশিক্ষক দশরথ সিং জানান, সঞ্জীব অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং প্রতিভাবান ফুটবলার। অনুশীলনে তাঁর নিষ্ঠা এবং শেখার আগ্রহ সব সময়ই নজর কেড়েছে। তিনি বলেন, “জঙ্গলমহলের ছেলেমেয়েদের মধ্যে প্রতিভার কোনও অভাব নেই। সঠিক প্রশিক্ষণ এবং সুযোগ পেলে তারাও অনেক দূর যেতে পারে। সঞ্জীবের এই সাফল্য সেই সম্ভাবনারই প্রমাণ। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে সে আরও বড় মঞ্চে বাংলা এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।”
সঞ্জীবের বাবা সুনীল মাহাত জানান, ছেলের এই সাফল্যে গোটা পরিবার গর্বিত।পড়াশোনার পাশাপাশি ফুটবলের অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া সহজ ছিল না। কিন্তু ছেলের একাগ্রতা এবং পরিশ্রমের ফল আজ মিলতে শুরু করেছে। গ্রামের মানুষও সঞ্জীবের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত। অনেকেই মনে করছেন, এই অর্জন এলাকার অন্যান্য ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার প্রতি আরও উৎসাহিত করবে।
গত কয়েক বছরে ঝাড়গ্রাম পুলিশ ফুটবল অ্যাকাডেমি থেকে একাধিক ফুটবলার বিভিন্ন স্তরে সুযোগ পেয়েছেন। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন সঞ্জীব মাহাত। তাঁর এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, জঙ্গলমহলের ক্রীড়া পরিকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি বলে মনে করছেন ক্রীড়ামহলের একাংশ। বেঙ্গল ফুটবল অ্যাকাডেমিতে সুযোগ পাওয়ার পর এখন আরও কঠিন অনুশীলন এবং উচ্চমানের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ পাবে সঞ্জীব। সেই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে রাজ্য এবং জাতীয় স্তরের ফুটবলে তাঁর পথ আরও প্রশস্ত করবে বলেই আশাবাদী তাঁর প্রশিক্ষক, পরিবার এবং এলাকার ক্রীড়াপ্রেমীরা।
আগুইশোলের মাটিতে বেড়ে ওঠা এক তরুণ ফুটবলারের এই সাফল্য তাই এখন শুধু একটি পরিবারের আনন্দের খবর নয়; এটি জঙ্গলমহলের অসংখ্য স্বপ্নবাজ কিশোরের কাছেও এক বড় অনুপ্রেরণার গল্প।