এদিকে শুক্রবার একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মৌখিকভাবে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই নাগরিকত্ব হারানো নয়। আর সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পরই দেশের আসল নাগরিক কারা, তা আরও একবার স্পষ্ট করলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তার স্পষ্ট বক্তব্য, ১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন-ই দেশের আসল নাগরিক নির্ধারণের একমাত্র আইনি ভিত্তি। সাম্প্রতিক এক বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই আইন অনুযায়ী ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ভারতে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকেই এ দেশের বৈধ নাগরিক। এর পাশাপাশি ভোট আবহে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও তার বক্তব্য, আমরা এটা করেছি। কারণ কাউকে না কাউকে তো এই দায়িত্বটা নিতেই হত। আর এই কথা প্রসঙ্গে এও জানান,এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের পূর্ণ সমর্থন ছিল, আর সেই কারণেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, সেটাও উল্লেখ করেন তিনি। এর পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট ভাষায় জানান, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনের সংশোধনী অনুযায়ী, ভারতে জন্মগ্রহণের সময়ের ওপর ভিত্তি করে নাগরিকত্বের প্রমাণকে মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথমত, ১ জুলাই ১৯৮৭ সালের আগে যাদের ভারতের মাটিতে যাদের জন্ম হয়েছে, তারা প্রত্যেকেই জন্মসূত্রে বা বংশসূত্রে সরাসরি ভারতের নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন। সঙ্গে এও জানান, ১ জুলাই ১৯৮৭ থেকে ২ ডিসেম্বর ২০০৪-এই সময়কালের মধ্যে ভারতে জন্ম হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিজের জন্ম শংসাপত্রের পাশাপাশি তার পিতা অথবা মাতার মধ্যে যেকোনো একজনের ভারতীয় নাগরিকত্বের বৈধ প্রমাণ দাখিল করতে হবে। তবে ২ ডিসেম্বর ২০০৪-এ বা তার পরবর্তী সময়ে ভারতে জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও কঠোর। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য আবেদনকারীর নিজের নথির পাশাপাশি পিতা ও মাতা—উভয়কেই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং তার উপযুক্ত প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।