প্রায় ১৮৬ বছরের পুরনো এই রথযাত্রাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর প্রস্তুতি। রথের সংস্কার, রং করা, অলংকরণ এবং বিভিন্ন আনুষঙ্গিক কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। ঐতিহাসিক এই রথটি পিতলের তৈরি। প্রতিবছরের মতো এবারও দক্ষ কারিগরদের তত্ত্বাবধানে রথের বিভিন্ন অংশের সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। রথযাত্রার দিন জমিদার বাড়ির কুলদেবতা গোপীনাথ জিউ-সহ অন্যান্য বিগ্রহকে এই রথে বসিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হবে। জানা যায়, উখড়া গ্রামের তৎকালীন জমিদার শম্ভুনাথলাল সিংহ হান্ডে ১৮৬ বছর আগে এই রথযাত্রার সূচনা করেছিলেন। সেই থেকে আজও একই ঐতিহ্য বজায় রেখে প্রতিবছর রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। উখড়া দাসপাড়ার রথতলায় সারা বছর সংরক্ষিত থাকে এই ঐতিহাসিক রথ। রথযাত্রার আগে প্রতিবছরই এর প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হয়। জমিদার পরিবারের সদস্য অনুরণলাল সিংহ জানান, রথযাত্রাকে ঘিরে সমস্ত প্রস্তুতি চলছে। রথের সংস্কারের পাশাপাশি মন্দির ও প্রাঙ্গণ সাজানোর কাজও এগোচ্ছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে কয়েক হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগমের আশা করা হচ্ছে। সেই কারণে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের সঙ্গেও সমন্বয় রাখা হচ্ছে। উখড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের কাছে এই রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও প্রতীক। তাই রথযাত্রার দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই উৎসবের আবহে মেতে উঠছে গোটা উখড়া।