এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮-এর পিচ উঠে তৈরি হওয়া মরণফাঁদে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গুরুতর জখম হলেন এক বাইকআরোহী দম্পতি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাঞ্চল্যকর দুর্ঘটনাটি ঘটেছে ধূপগুড়ি ও গয়েরকাটার মাঝামাঝি ঠাকুরপাঠ সংলগ্ন এলাকায়। আহতদের উদ্ধার করে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আহত দম্পতির নাম বাবুরাম লোহার ও জ্যোতি লোহার। তারা জলপাইগুড়ি জেলার গয়েরকাটার বাসিন্দা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজেদের মোটর সাইকেলে চেপে গয়েরকাটা থেকে ধূপগুড়ির দিকে যাচ্ছিলেন ওই দম্পতি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঠাকুরপাঠ এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ের ওপর একটি বিশাল গর্ত ছিল। অন্ধকারে সেই মরণফাঁদটি বুঝতে পারেননি চালক, দ্রুত গতিতে থাকা বাইকের চাকাটি আচমকাই সেই গর্তে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁকুনি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই। দুর্ঘটনাটি নজরে আসতেই তীব্র চিৎকার করে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দমকল কর্মী ও স্থানীয়দের তৎপরতায় রক্তাক্ত অবস্থায় ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দুজনের শরীরেই গুরুতর আঘাত লেগেছে। তবে স্ত্রী জ্যোতি লোহারের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। ধূপগুড়ি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তৎক্ষণাৎ জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনার পর এশিয়ান হাইওয়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে ছোট-বড় একাধিক বিপজ্জনক গর্ত তৈরি হয়ে রয়েছে, যা রাতের অন্ধকারে কার্যত অদৃশ্য মরণফাঁদে পরিণত হয়।বারবার প্রশাসন ও সড়ক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং দুর্ঘটনাগ্রস্থ বাইকটি উদ্ধার করেছে।