কথিত আছে স্নানযাত্রার পর মহাপ্রভু জগন্নাথদেব বলরাম সুভদ্রার জ্বর আসে তারপরে গৃহবন্দী থাকেন এরা। ঠিক ১৪ দিন পর দীর্ঘ জ্বর ভোগের থেকে মুক্তি পায়, সেইমতো আজ মঙ্গলবার সকালে মাহেশের ঐতিহাসিক জগন্নাথ দেবের মন্দিরপুনরায় ভক্তদের সামনে খুলে গেলে প্রভু আবির্ভূত হন ভক্তদের মাঝে। এই উপলক্ষে নব যৌবন উৎসব পালিত হয়।সকাল থেকে মাহেশের জগন্নাথ মন্দির ছিল ভক্তদের কোলাহলে মুখর। নবযৌবন উৎসব সম্বন্ধে বলতে গিয়ে মাহেশ জগন্নাথ দেব ট্রাষ্টি বোর্ডের সম্পাদক পিয়াল অধিকারী জানান স্নানযাত্রার দিন স্নানের পর প্রভু জগন্নাথ জ্বরে কাবু হয়ে পড়েছিলেন সুদূর আরামবাগ থেকে বৈদ্যরা এসে তার চিকিৎসা করেছিলেন কিছুটা সুস্থ হবার পর জগন্নাথ দেব বল ভদ্র এবং মা সুভদ্রার নবযৌবন হয়। বিভিন্ন ভেষজ রঙে রাঙিয়ে দেয়া হয় তিন বিগ্রহ কে, ৬৩০ বছর আগে ধ্রুবানন্দ স্বামী মাহেশে যে দারু মূর্তি স্থাপন করেছিলেন তা আজও বিরাজমান সেই একই মূর্তি শতকের পর শতক ধরে পূজিত হয়ে আসছে শ্রীপাট মাহেশে। মহাপ্রভু চৈতন্যদেব এক সময় মাহেশের জগন্নাথ দেব দর্শনে এসেছিলেন, তিনি প্রভু দর্শন করে বলেছিলেন মাহেশ হচ্ছে নবনিলাচল, অর্থাৎ পুরীর পরই হচ্ছে মাহেশের স্থান এদিন সকাল থেকে মন্দিরের গর্ভ গৃহ থেকে প্রভু দর্শন দিচ্ছেন ভক্তদের মাঝে, নুতন রাজ বেশে তিনি ভূষিত হয়েছেন পরানো হয়েছে স্বর্ণালংকার, অগণিত ভক্ত এসে তাদের প্রভুর কাছে প্রার্থনা করছেন। এদিন প্রভুর বিশেষ ভোগের আয়োজন করা হয়েছে দেয়া হবে তার পছন্দের মিষ্টি বালা সন্দেশ, গুটকে সন্দেশ, কথিত আছে এক সময় প্রভু জগন্নাথ দেবের সন্দেশ খাবার বাসনা হয়েছিল, সেই কারণে তিনি ছদ্মবেশে মাহেশের একটি মোদকের দোকানে যান এবং সেখানে গিয়ে তিনি সন্দেশ নেয় কিন্তু তার কাছে কোন অর্থ না থাকায় তিনি তার হাতের সোনার বালা মোদকের কাছে জমা দিয়ে বলেন এটা আপাতত রাখো আমি আগামীকাল এসে এই বালাটি ছাড়িয়ে নিয়ে যাব। সেই রাতে মন্দিরের পুরোহিত যখন প্রভুর সন্ধ্যা আরতি করছিলেন সেই সময় তিনি দেখেন প্রভুর হাতে বালা নেই। চারিদিকে হৈ হৈ পড়ে যায় এবং সেই রাতেই মন্দিরের পূজারীকে প্রভু স্বপ্নাদেশে বলেন তিনি ওই মোদকের কাছে বালা বন্ধক রেখে সন্দেশ নিয়েছেন তোমরা গিয়ে ছাড়িয়ে নিও। এই সংবাদ জানতে পেরে মোদক প্রভুর পায়ে এসে পরেন এবং বালাটি প্রভুর কাছে অর্পণ করে যান, তারপর থেকেই প্রতিবছর ওই মোদকের দোকান থেকে প্রভুর জন্য বালা সন্দেশ এবং গুটকা সন্দেশ আসে। আজ মঙ্গলবার নব যৌবন উৎসব। দুদিন পর অর্থাৎ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে মাহেশের ঐতিহাসিক ৬৩০ বছরের পুরানো রথযাত্রা, প্রভু জগন্নাথ বলরাম এবং সুভদ্রাকে নিয়ে মাহেশের রথ যাত্রা করবে দেড় কিলোমিটার দূরবর্তী মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে।