সোমনাথ পাল (গাইঘাটা): সময় টা নেহাৎ কম নয়। প্রায় ১৪ বছর। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর ফের খুলল প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস খুনের ফাইল। শুধুই ফাইল খোলা নয়। তদন্তের শুরুতে বৃহস্পতিবারই গাইঘাটার সুঁটিয়ায় প্রতিবাদী শিক্ষক নিহত বরুণ বিশ্বাসের বাড়িতে পৌঁছে যায় রাজ্য গোয়েন্দা পুলিশের দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল। সেখানে নিহত প্রতিবাদী শিক্ষকের পরিবারের সদস্যদের যাবতীয় অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ঘটনায় নিহত বরুন বিশ্বাসের দাদা অসিত বিশ্বাস বলেন, নতুন সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর ওপর আমাদের বিশ্বাস ভরসা দুইই রয়েছে। ভাইয়ের খুনের ফাইল খোলা সহ অভিযুক্তদের শাস্তি চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে ছিলাম। কথা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার ভাইয়ের খুনিরা সাজা পাবে। আগের সরকারের আমলে সব তথ্য প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা হয়েছে। প্রকৃত তদন্ত হলে সব সত্যি সামনে আসবে। সাজা পাবে খুনি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। আশায় বুক বাঁধছে নিহত প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণের পরিবার। প্রসঙ্গত ২০১২ সালের ৫ই জুলাই ভর সন্ধ্যাI উত্তর ২৪ পরগণার গোবর ডাঙা স্টেশনে ভিড়ের মাঝেই দুষ্কৃতীরা পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করে প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস কে। গাইঘাটার নারকীয় সুটিয়া গণধর্ষণের একমাত্র সাক্ষী ছিল বরুণ।
সে সময় প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ খুনে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায় গোটা রাজ্যে। ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই অভিযুক্ত কয়েক জন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিচারে কয়েক জনের সাজা হয় আবার কয়েক জন বেকসুর খালাস পেয়ে যায়। কিন্তু কারা বা কে খুন করালো প্রতিবাদী বরুণ কে। তা নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। তৈরি হয় সুটিয়া গণ প্রতিবাদী মঞ্চ। খুনের অভিযাগে আঙুল ওঠে তৎকালীন গাইঘাটার বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্য মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের দিকে। তবে সবটাই ছিল অভিযোগ। শোনা যায় স্থানীয় চালোন্দিয়া খাল বুজিয়ে প্রোমোটিং করতে চেয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় আর তাতেই প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায় গাইঘাটার সুটিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ। জ্যোতিপ্রিয়র এই অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিল প্রতিবাদী বরুণ। তবে তৎকালীন পুলিশের খাতায় আবার তদন্তে উঠে আসে বরুণ খুনের নেপথ্যে সুটিয়া গনধর্ষণের অন্যতম অভিযুক্ত জেল বন্দি সুশান্ত চৌধুরীর নাম। পরে অবশ্য যাবতীয় প্রমাণ লোপাটে জেল বন্দি সুশান্ত চৌধুরীকে জেলের ভিতরেই খুন করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় একের পর সন্দেহ ও অভিযোগ চলেছিল। কিন্তু প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ খুনের আসল মাথা কে ? শেষ পর্যন্ত তা জানতে চায় সুটিয়া তথা গোটা রাজ্যের মানুষ। সেদিন যে তদন্তের ফাইল রাজ্য পুলিশ, তৎকালীন তৃণমূল সরকার ও তার দাগী মন্ত্রীর অঙ্গুলী হেলনে চ্যাপটার ক্লোজড করেছিল। ফের কি খুলবে প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস খুনের ফাইল। সম্প্রতি রাজ্যে পালাবদলের পরই মুখ্যমন্ত্রীর তখতে বসেই আরজিকর কাণ্ডের ফাইল খুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তাতেই আশায় বুক বাঁধে খুন হওয়া প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণের পরিবার থেকে শুরু করে সুটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চ। আজও দিদি প্রমীলা বিশ্বাস প্রতিবাদী ভাইয়ের মৃত্যুতে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াইয়ের পাশাপাশি মনে মনে বিশ্বাস করেন তার ভাইকে ষড়যন্ত্র করে খুন করেছে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালুই।সেই মতোই রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রতিবাদী ভাইয়ের খুনের ফাইল খোলার দাবী জানায় নিহত বরুণের পরিবার। পাশাপাশি খুনের ঘটনার রহস্য ভেদে নতুন করে সিট গঠনের দাবিও জানান তারা। শেষমেশ সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে খুলল সুটিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস খুনের ফাইল ।