বিলের খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশন চাইলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা চাপাতে পারে। এখানেই শেষ নয়, বর্তমানে যে আইন রয়েছে তা অন্তত এই বাংলায় আইনের শাসন কায়েম করে রাখার পক্ষে যথেষ্ট নয়। বিলে পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থাকে বিপুল ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বা মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারে, এমন সব কাজই সমাজবিরোধী কাজের সংজ্ঞার মধ্যে আনা যাবে। এর মধ্যে রাখা হয়েছে-শৃঙ্খলা নষ্ট করা, মানুষের জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা, আইন সম্মত ব্যবসা-বাণিজ্য বা পেশায় বাধা দেওয়া, বেআইনি ভাবে কারও স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দখল করা, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করা, খনি, বালি, পাথর বা প্রাকৃতিক সম্পদ বেআইনি ভাবে উত্তোলন করা, বন্যপ্রাণী বা বনজ সম্পদের ক্ষতি করা। অর্থাৎ, শুধু রাজনৈতিক হিংসা নয়, তোলাবাজি, জমি দখল, সিন্ডিকেট, বেআইনি খনি বা বালি কারবার, সম্পত্তি ভাঙচুর, ব্যবসায় বাধা – সবকিছুকেই এই আইনের আওতায় আনার রাস্তা খুলে রাখা হয়েছে। এবার সেই গুন্ডাদমন আইনই লাগু হতে চলেছে রাজ্যে। শুক্রবার মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে প্রশাসনিক আধিকারিকদের একগুচ্ছ নির্দেশ দেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভুয়ো উপভোক্তাদের ধরতে পারলেই কড়া শাস্তি হবে। তার কথায়, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, সংখ্যালঘু স্কলারশিপ-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগী কারা, সেসব ভেরিফিকেশন করতে গিয়ে দেখলাম অন্তত ৬০০টি ভুয়ো। এই জেলায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অধিকাংশ জাল। ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এবার আমরা ভালো করে নথি পরীক্ষা করছি। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার লিংক, কেওয়াইসি আছে কিনা, এসব দেখতে গিয়ে ভুয়ো উপভোক্তারা ধরা পড়ছে। ২টো মাস সময় দিন, ভেরিফিকেশনের কাজ হবে। ভুয়ো যারা ধরা পড়বে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।