এক ঝলক
সোমবার থেকেই রাজ্যে লাগু গুন্ডাদমন আইন ১৪ বছর পর ফের খুলল বরুণ বিশ্বাস খুনের ফাইল  মুর্শিদাবাদ সফরে মুখ্যমন্ত্রী সরকারি প্রকল্পের অনিয়ম ও ভাঙন রোধে সরব সন্তোষপুর মেটিয়াবুরুজ আখড়া ও চট্টার দর্জি শিল্প মহা সংকটে রাজেশ শর্মাকে দেখতে হাসপাতালে মন্ত্রী

সোমবার থেকেই রাজ্যে লাগু গুন্ডাদমন আইন

নিজস্ব সংবাদদাতা: মাত্র কয়েক দিন আগেই রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয়েছিল গুন্ডাদমন বিল। সেই বিলে অনুমোদনও দিয়েছেন রাজ্যপাল। আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যে লাগু হচ্ছে গুন্ডাদমন আইন। শুক্রবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে দাঁড়িয়ে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, রেল, বাস জ্বালানো, পুলিশকে মারা – এসব অতীত। নারী সুরক্ষা, পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে। মামলাগুলির বিচার দ্রুত হবে। সামসেরগঞ্জ, ধুলিয়ানে যা হয়েছে, সেসব আর হবে না। হলেই কড়া ব্যবস্থা। মুখ্যমন্ত্রীর আরও সংযোজন, নিয়ম মেনে সমস্ত প্রক্রিয়া হয়ে গিয়েছে। আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যজুড়ে লাগু গুন্ডাদমন আইন। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে সিএএ পাশের পর বাংলায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হাওড়ায় ব্যাপক অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়। প্রতিবাদের নামে বেশ কিছু জায়গায় ট্রেন, বাস এবং সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। রাজ্যে পালাবদলের পর সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই গত ২৯ জুন, রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয় পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬। যা সংক্ষেপে ‘গুন্ডাদমন বিল’ নামে পরিচিত।
Ganamadhyam
11 July, 2026
 বিলের খসড়ায় বলা হয়েছে, কমিশন চাইলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণের চেয়েও দ্বিগুণ দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা চাপাতে পারে। এখানেই শেষ নয়, বর্তমানে যে আইন রয়েছে তা অন্তত এই বাংলায় আইনের শাসন কায়েম করে রাখার পক্ষে যথেষ্ট নয়। বিলে পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থাকে বিপুল ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে বা মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারে, এমন সব কাজই সমাজবিরোধী কাজের সংজ্ঞার মধ্যে আনা যাবে। এর মধ্যে রাখা হয়েছে-শৃঙ্খলা নষ্ট করা, মানুষের জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা, আইন সম্মত ব্যবসা-বাণিজ্য বা পেশায় বাধা দেওয়া, বেআইনি ভাবে কারও স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দখল করা, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতি করা, খনি, বালি, পাথর বা প্রাকৃতিক সম্পদ বেআইনি ভাবে উত্তোলন করা, বন্যপ্রাণী বা বনজ সম্পদের ক্ষতি করা। অর্থাৎ, শুধু রাজনৈতিক হিংসা নয়, তোলাবাজি, জমি দখল, সিন্ডিকেট, বেআইনি খনি বা বালি কারবার, সম্পত্তি ভাঙচুর, ব্যবসায় বাধা – সবকিছুকেই এই আইনের আওতায় আনার রাস্তা খুলে রাখা হয়েছে। এবার সেই গুন্ডাদমন আইনই লাগু হতে চলেছে রাজ্যে। শুক্রবার মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে প্রশাসনিক আধিকারিকদের একগুচ্ছ নির্দেশ দেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভুয়ো উপভোক্তাদের ধরতে পারলেই কড়া শাস্তি হবে। তার কথায়, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, সংখ্যালঘু স্কলারশিপ-সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাভোগী কারা, সেসব ভেরিফিকেশন করতে গিয়ে দেখলাম অন্তত ৬০০টি ভুয়ো। এই জেলায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অধিকাংশ জাল। ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। এবার আমরা ভালো করে নথি পরীক্ষা করছি। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার লিংক, কেওয়াইসি আছে কিনা, এসব দেখতে গিয়ে ভুয়ো উপভোক্তারা ধরা পড়ছে। ২টো মাস সময় দিন, ভেরিফিকেশনের কাজ হবে। ভুয়ো যারা ধরা পড়বে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ই-পেপার