হালারা বিপত্তারিনী তলা থেকে শুরু হওয়া এই মহা বিজয় মিছিল জামালপুর পুলমাথা, বাজার, থানা মোড় হয়ে বাসস্ট্যান্ডে এসে শেষ হয়। তবে মিছিলের বিশালত্ব ছিল চোখে পড়ার মতো। বাসস্ট্যান্ডে মিছিলের প্রথম সারি পৌঁছে গেলেও শেষ অংশ তখনও অনেকটা দূরে ছিল। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে গোটা জামালপুর কার্যত যানবাহন ও জনসমাগমে মুখর হয়ে ওঠে।
বাসস্ট্যান্ডে তৈরি করা হয় বিশাল মঞ্চ। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় বিজয় সমাবেশ। সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বলেন, জামালপুরের এই ঐতিহাসিক জয় কোনও এক ব্যক্তির নয়, এটি প্রত্যেক কর্মী- সমর্থকের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আমাকে এখানে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আমি বিধায়ক অরুন হালদারকে ধন্যবাদ জানাই। দীর্ঘদিন ধরে জামালপুরের মানুষের বাক্স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত ছিল। এখন নতুন সরকার মানুষের সেই অধিকার নিশ্চিত করবে।
তিনি কেন্দ্রের অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও বক্তব্য রাখেন। যারা এখনও প্রকল্পের অর্থ পাননি, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, আধার সংযুক্তিকরণ এবং আধার কার্ডের সঙ্গে মোবাইল নম্বর সংযুক্ত রয়েছে কিনা তা যাচাই করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, সমস্ত যোগ্য উপভোক্তাই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
বিধায়ক অরুন হালদার তার বক্তব্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য সভাপতি, দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি জামালপুরের সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, জামালপুরের মানুষ এবার দেখবে একজন বিধায়ক কীভাবে মানুষের জন্য কাজ করেন। উন্নয়নই হবে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, ক্ষমতা নিয়ে কেউ যেন অহংকার না করেন। ক্ষমতা কখনও চিরস্থায়ী নয়। অন্যায় করলে আইন অনুযায়ী শাস্তি পেতেই হবে। একই সঙ্গে দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তার বার্তা, সকলকে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে হবে।
এই বিশাল কর্মসূচি সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন চার মণ্ডল সভাপতি প্রধান চন্দ্র পাল, সুরভীলতা মণ্ডল, সন্তু শীল ও শুভঙ্কর মালিক। বিশেষ করে ১ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি প্রধান চন্দ্র পাল এবং সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ বাগ হাজার হাজার কর্মী- সমর্থককে নিয়ে মিছিলে যোগ দেন, যা কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। বিজয় মিছিল ঘিরে সকাল থেকেই জামালপুরে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল, মোটরবাইক বাহিনী এবং দলীয় পতাকা হাতে কর্মী- সমর্থকদের ঢল নামে। রাস্তার দু'ধারে দাঁড়িয়ে বহু সাধারণ মানুষও এই ঐতিহাসিক মিছিল প্রত্যক্ষ করেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জনসমাগমের নিরিখে জামালপুরের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের কর্মসূচি হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।