এমনকী কেন পুলিশকে গুলি চালাতে হল তাও সিআইডি খতিয়ে দেখবে বলে খবর। এদিকে নিয়ম অনুযায়ী বারুইপুর পুলিশ জেলা এই তদন্ত করতে পারে না। নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এই ঘটনার তদন্তভার সিআইডি-কে দেওয়া হয়েছে। নিয়ম মোতাবেক পুলিশ এনকাউন্টারের ক্ষেত্রে বিচারবিভাগীয় তদন্ত হয়। সেই তদন্ত প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। সিআইডি'র তদন্তের পাশাপাশি ওই বিচারবিভাগীয় তদন্তও চলবে সমান্তরাল ভাবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার ১২ বছরের কিশোরীর রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর। উত্তেজিত জনতার গণপ্রহারে এক তরুণের মৃত্যু পর্যন্ত হয়। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা রেল অবরোধ করেন। দোষীদের গ্রেফতার আর শাস্তির দাবিতে ঘণ্টখানেক বন্ধ থাকে ট্রেন চলাচল। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে চলে সড়ক অবরোধ।উত্তেজিত জনতাকে সরাতে পুলিশ লাঠি চার্জ করে। যাতে পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাল ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নিহত কিশোরীর বাবা ও মাকে সোমবার ভবানীভবনে দেখা করতে বলেন।অন্যদিকে আইজি কঙ্কররপ্রসাদ বাড়ুই আশ্বাস দেন দোষীদের রেয়াত করা হবে না। এরপরই পরপর তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সূত্রের খবর, ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলো প্রভাস মণ্ডল। মঙ্গলবার রাতে তাকে ঘটনার পুনঃনির্মাণ করতে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হলে পুলিশের থেকে সে পিস্তল ছিনতাই করে নেয় বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, এরপরই আত্মরক্ষার্থে পুলিশ এনকাউন্টার করে প্রভাস মণ্ডলকে।
এরই মাঝে এলাকার নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ আউটপোস্ট তৈরি করা নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। এরপরই সূর্যপুরে পুলিশ আউটপোস্টের জন্য স্থান পরিদর্শনে বারুইপুর পুলিশ সুপার৷ বারুইপুরে নাবালিকার গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর লক্ষ্যে পুলিশ আউটপোস্ট তৈরির ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই ঘোষণার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পদক্ষেপ নিতে দেখা গেল বারুইপুর জেলা পুলিশকে। এদিকে পুলিশের উপর হামলা, রাস্তা অবরোধ, অগ্নিসংযোগ এবং পিটিয়ে খুনের অভিযোগে রাতভর অভিযান চালিয়ে আরও ৩২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উস্তি মগরাহাটের মত জায়গা থেকে লোকজন এসেছিলেন রবিবার ওই এলাকায়। তাদের ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানেও একাধিক জায়গায় তল্লাশি চলে বুধবার রাতে। প্রসঙ্গত, গোলমালের ঘটনায় বুধবারই ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের নিজেদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে বাকি অভিযুক্তদের খোঁজেও রাতভর চলে তল্লাশি। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তাতে ৩২ জনকে পাকড়াও করা হয়। যাদের আটক করে রেখেছিল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ধর্ষণ কাণ্ডে গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল মোট ১১। মব লিঞ্চিং, পুলিশকে মারধর, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, রাস্তা অবরোধ, ট্রেন অবরোধ সহ একাধিক মামলায় পুলিশ মোট ৩২ জনকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার এনকাউন্টারে নিহত প্রভাস মণ্ডলের দেহের ময়নাতদন্ত হওয়ার কথা।
বারুইপুরের এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে এবার শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। বারুইপুরের হিংসার নেপথ্যে সিপিআই(এম) নেতৃত্বের হাত রয়েছে বলে বিস্ফোরক দাবি তুলেছে বিজেপি। সিপিএমের যুবনেতা তথা এবারের বিধানসভা ভোটে বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী লাহেক আলি এবং অপর এক বাম নেতা অনুভব মাইতির বিরুদ্ধে বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির অভিযোগ, নাবালিকার মৃত্যুর পর যে ব্যাপক অশান্তি, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, রাস্তা অবরোধ এবং অভিযুক্তদের বাড়িঘরে লুটপাট-তাণ্ডব চলেছিল, তার নেপথ্যে এই দুই সিপিএম নেতার প্রত্যক্ষ মদত ছিল। শুধু তাই নয়, সিপিএম নেতা লাহেক আলির বিরুদ্ধে জামাত এবং দেশবিরোধী শক্তির সঙ্গে যোগসাজশ থাকার মতো অত্যন্ত গুরুতর ও সংবেদনশীল অভিযোগও এনেছে পদ্ম শিবির। এরপরই বিজেপির পক্ষ থেকে দুই সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। যদিও এই গুরুতর অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত সিপিএম নেতাদের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। বারুইপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, বিজেপির লিখিত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। এলাকায় নতুন করে যাতে কোনও উত্তেজনা না ছড়ায়, তার জন্য পুলিশি টহলদারি জারি রয়েছে।