শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দেন, আমরা হাসপাতালগুলিকে আয়ুষ্মান মন্দির নাম দিয়েছি। মন্দিরে যেমন পবিত্রতা রক্ষা করা হয়, সেটাই স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে করতে হবে। স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুম থেকেই এবার রাজ্যের সব সরকারি হাসপাতালে নজরদারি চালানো হবে। বৃহস্পতিবার কন্ট্রোল রুম ঘুরে দেখার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দালালরাজ-মুক্ত করতে হবে হাসপাতালগুলিকে। স্বাস্থ্যভবনের কন্ট্রোল রুম থেকে চলবে নজরদারি। সঠিক পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যে চলবে নজরদারি। যাতে কোনও দালাল, যাকে আজকে সকালে ওখানে দেখা গেছে, কাল সকালে দেখতে না পাওয়া যায়। এটা বড় উদ্দেশ্য দালালদের হটানোর। এবার চিহ্নিত হয়ে যাবে। তৃণমূল জমানায় নানা সময়ে সরকারি হাসপাতালে দালালচক্রের অভিযোগ উঠেছে। রাজ্যে পালাবদলের পরে নতুন সরকার প্রথম থেকেই দালালচক্র বন্ধ করার কথা বলে এসেছে। সেই লক্ষ্যেই স্বাস্থ্যভবন থেকে কড়া নজরদারি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে ভালো পরিবেশের জন্য নজরদারি দরকার। হাসপাতালগুলিতে যাঁরা কাজ করেন, তারা যথেষ্টই অভিজ্ঞ। তাদের শুধু কাজ করার পরিবেশ করে দিতে হবে। স্বাস্থ্যকর্মীদেরও সরকার নিরাপত্তা দেবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে কোনও এক ব্যক্তিকে যদি পর পর ২ দিন ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়, তা হলেই বোঝা যাবে। কোনও রোগী নিশ্চয়ই পর পর ২ দিন আল্টাসোনোগ্রাফি করতে আসবেন না। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরেও দেখেছেন। সেখানে স্বাস্থ্যকর্মীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নজরে রেখে কাজকর্ম করছেন জানিয়ে তার প্রশংসাও করেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, প্রশাসনিক আধিকারিকেরাও পারদর্শী। তাদের সঠিক ভাবে গাইড করতে হবে। সরকার সেই চেষ্টাই করছে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'রাজ্য ও জেলা হাসপাতালে মনিটরিং হবে এই স্বাস্থ্য ভবনের কন্ট্রোল রুমের মনিটরিং রুম থেকে। কিচেন, পার্কিংয়েও মনিটরিং হবে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। তার আরও সংযোজন, স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া হবে। নার্সদের দেওয়া হবে ল্যামিনেশন করা ব্যাজ। বিভিন্ন স্তরে কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য থাকবে আলাদা রঙের ব্যাজ। যাতে কোন কর্মী কী কাজ করছে সেটা নজরদারি করা যায়। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিউ টাউনে আদানি গোষ্ঠী যে ২০০০ বেডের হাসপাতাল তৈরি করতে চলেছে, তার উদ্বোধনও শীঘ্রই হবে। তিনি বলেন, ২০০০ বেডের হাসপাতাল হচ্ছে। তার মধ্যে এক হাজার বেড শুধু গরিব মানুষের জন্যই বরাদ্দ থাকবে। শুধু তা-ই নয়, রাজ্যের সমস্ত হাসপাতালেই শয্যা বাড়ানোর কথা ভেবেছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানান, পুজোর মধ্যে আরও ২০০-২৫০ শয্যা বাড়বে এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে আইসিইউ বেডের সংখ্যা ১১২ থেকে বেড়ে হবে অন্তত ২০০। হাসপাতালগুলিতে ট্রমা কেয়ার পরিষেবার বহর নিয়ে সন্তুষ্ট নন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, তারাতলার বিপর্যয় দেখিয়ে দিয়েছেন, আমাদের ট্রমা কেয়ার পর্যাপ্ত নয়। এক মিনিটে যাতে ২৫০ জনকে পরিষেবা দেওয়া যায়, সেই রকম ট্রমা কেয়ার বানাতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিবকে বলেছি, জায়গা চিহ্নিত করতে।