সুজিত বসু'র বিরুদ্ধে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে অভিযোগ ইডির
নিজস্ব সংবাদদাতা: পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সুজিত বসুর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই নিয়োগ দুর্নীতির জাল বিস্তারে সুজিত বসুর হাত ধরে নগদ ২০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছিল। প্রসঙ্গত, গত ১১ মে গ্রেফতার হওয়ার মাত্র ৯ দিনের মাথায় সুজিত বসুর বিরুদ্ধে বিশেষ আদালতে এই চাঞ্চল্যকর চার্জশিট পেশ করলেন ইডির আইনজীবীরা। প্রসঙ্গত, পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির পক্ষ থেকে পেশ করা এটিই প্রথম সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট।
১৮৬ পাতার এই চার্জশিটে সুজিত বসুকে গোটা পুর নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডের প্রধান চক্রী বা ‘মাস্টার মাইন্ড’ বলে দাবি করেছে ইডি। ইডি সূত্রে এ খবরও মিলেছে, চার্জশিটে কেবল প্রাক্তন মন্ত্রী একাই নন, নাম রয়েছে তার পুত্র সমুদ্র বসু এবং মন্ত্রীর মালিকানাধীন দুটি সংস্থারও। এর পাশাপাশি এই দুর্নীতিতে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের তৎকালীন ডিরেক্টর অব ডিএলপিজ্যোতিষ্মান চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। ইডির দাবি, সুজিত বসুর হাত ধরে যেখানে ২০ কোটি টাকা বাজারে ঘুরেছে, সেখানে জ্যোতিষ্মানের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে আরও ৩ কোটি টাকা।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ দমদম পুরসভার নিয়োগে ব্যাপক বেনিয়মের অভিযোগে গত মে মাসে সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। চার্জশিটে ইডি দাবি করেছে, ওই পুরসভায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাকরি পাইয়ে দিতে সুজিত বসু নিজে ৩৪০ জন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছিলেন। আর চাকরিপ্রার্থীদের প্রত্যেকের কাছ থেকে সুজিত বসু গড়ে ৬ লক্ষ টাকা করে ঘুষ নিয়েছিলেন বলে চার্জশিটে অভিযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইডির তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে যে, এই মামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারির হদিস মিলেছে। একইসঙ্গে ইডি আদালতে এও জানিয়েছে, পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতির শিকড় অনেকটাই গভীরে।