নিজস্ব প্রতিনিধি (নদীয়া): পুর্ণনগর শান্তি সত্য ভামা বালিকা বিদ্যালয়, নদীয়ার ধানতলা থানার অন্তর্গত এই জুনিয়র গার্লস হাই স্কুলটি ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং অনুমোদিত হবার পরে এ পর্যন্ত তিন জন শিক্ষিকা এই বিদ্যালয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। শুরুতে কিছু ছাত্রী ভর্তি হলেও বিদ্যলয়ের পরিকাঠামো এবং পরিচালন ব্যবস্থাপনা ঠিক মতো না থাকার দরুন আর নতুন করে ছাত্রী ভর্তি হয়নি। বিষয়টি নিয়ে কর্তব্যরতা শিক্ষিকারা এস, আই এবং ডি, আই ও শিক্ষা দপ্তরে একাধিক বার দরবার করা সত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তেমনভাবে কোন নজর না থাকায় ধুঁকছে এই বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ে ছাত্রী না থাকায় প্রথম দিকে শিক্ষিকারা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসলেও পরে আর তারা আসেন না। বাড়িতে বসেই বেতন পেয়ে যাচ্ছেন।
বেতন তুলছেন বলে এলাকার অনেকেই এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।এলাকাবাসীর অভিযোগ, যে তিনজন শিক্ষিকা রয়েছেন এরা প্রত্যেকেই এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতানেত্রীদের নিকট আত্মীয়। এরা কেউ জেলার বগুলা গার্লস হাই স্কুল, কেউবা করিমপুর হাই স্কুলে ইতিপূর্বে কর্মরতা ছিলেন এবং সেখান থেকে বদলী হয়ে এখানে বাড়ির কাছে চলে এসেছেন। এবিষয়ে বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষিকা অন্তরা বিশ্বাসকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত বিস্ময়ের, আমরা এই বিদ্যালয়ে চাকরি করছি কিন্তু কোন শিক্ষার্থী নেই, আর এই ভাবে বেতন নিতেও বিবেকে লাগে। আমরা বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা দপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ সমূহে একাধিক বার দরবার করলেও, কোন সুরাহা হয়নি। তাই আমাদের দাবি,এই বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন না করলে ছাত্রী পাওয়া অসম্ভব, আর সেই ক্ষেত্রে আমাদের নিকটবর্তী অন্যত্র ট্রান্সফার করা হোক। ঐ শিক্ষিকার আরও দাবি, শুরুতে কিছু ছাত্রী ভর্তি হয়েছিল এবং সেই সময় আমরা নিজেদের টাকা থেকে তাদের মিড ডে মিলও চালু করি কিন্তু পরিকাঠামো গত উন্নয়ন অর্থাৎ পর্যাপ্ত জায়গা থাকায় একটি ছোট্ট টিনের চালা ছাড়া কোন বিল্ডিং (ক্লাস রুম) তৈরি না হওয়ায় পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকে আর ছাত্রী ভর্তি হয়নি, ফলে মিড ডে মিল ও তারপর থেকে বন্ধ। এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবক তথা বিজেপি নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি দিলীপ কুমার মহুরীর দাবি, জনবহুল এলাকা এবং প্রায় আট কিলোমিটারের মধ্যে কোন বালিকা বিদ্যালয় নেই, তা সত্বেও তৃনমুলের কিছু প্রভাবশালী নেতার ঔদ্ধত্য, পরিচালনা এবং খবরদারীর জন্য এই বিদ্যালয়টি এলাকার জনমানসে জ্ঞানের আলো ছড়াতে পারলো না। তাছাড়া বিল্ডিং নির্মানের জন্য সরকারি ভাবে অর্থ বরাদ্দ হওয়া সত্বেও কেন নির্মাণ কার্য শুরু হলনা বলেও প্রশ্ন তোলেন দিলীপ বাবু।