অনাস্থায় সরলেন সভাধিপতি, ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদে নতুন সমীকরণ
স্বপ্নীল মজুমদার (ঝাড়গ্রাম): শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটির প্রয়োজনই পড়ল না। বুধবার ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের তলবি সভায় উপস্থিত ১৪ জন সদস্যই অনাস্থা প্রস্তাবের সমর্থনে মত দেওয়ায় সভাধিপতি চিন্ময়ী মারান্ডি পদ হারালেন। প্রশাসন সূত্রের খবর, উপস্থিত সদস্যদের সর্বসম্মত সমর্থনেই অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হওয়ায় আলাদা করে ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়েনি। চিন্ময়ী মারান্ডি-সহ পাঁচ জন সদস্য এ দিনের সভায় অনুপস্থিত ছিলেন।
২৩ জুন মেদিনীপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়েছিল। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদের ১৯টি আসনেই জয়ী হয়েছিল তৃণমূল। সেই বোর্ডেরই ১২ জন সদস্য সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে সই করেছিলেন। যদিও ব্যক্তিগত কারণে সে দিন অনাস্থা প্রস্তাবে সই করতে পারেননি শিলদা এলাকার সদস্য অপর্ণা পাত্র। বুধবার তিনি এবং সাঁকরাইল ব্লক থেকে নির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্য কমলকান্ত রাউত উপস্থিত থাকায় অনাস্থার পক্ষে সমর্থনকারী সদস্যের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪। দুপুর ১২টা নাগাদ একটি সাদা রঙের যাত্রীবাহী ভ্যানে করে ১৪ জন সদস্য ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে পৌঁছন। পরে দোতলায় সভাকক্ষে তলবি সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশাসনের তরফে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি সংস্কার) লক্ষ্মণ পেরুমল আর, জেলা পরিষদের সচিব রঞ্জন হাইত এবং জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক সুরজিৎ ভড়। দুপুর ১টা নাগাদ একই ভ্যানে চেপে জেলা পরিষদ থেকে বেরিয়ে যান সদস্যরা। সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নিশীথ মাহাতো শুধু বলেন, সুষ্ঠুভাবে সব সম্পন্ন হয়েছে। অনাস্থায় অপসারিত হওয়ার পরে চিন্ময়ী মারান্ডি বলেন, যে জেলা পরিষদকে ১৭তম স্থান থেকে রাজ্যের এক নম্বরে নিয়ে এসেছিলাম, সেই জেলা পরিষদের সভাধিপতি পদ থেকেই আজ আমাকে সরিয়ে দেওয়া হল। দলের সদস্যরা কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন, তার কোনও ব্যাখ্যা দেননি। আমার দোষটা কোথায়, সেটাই জানতে পারলাম না। এ দিকে, অনাস্থা প্রস্তাবে সই না করা এবং এ দিনের তলবি সভায় অনুপস্থিত পাঁচ সদস্যের অন্যতম জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সুমন সাহু সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সাদা রঙের যাত্রীবাহী ভ্যান থেকে একে একে নেমে জেলা পরিষদ ভবনে ঢুকছেন ১৪ জন সদস্য। সেই ভিডিও পোস্ট করে সুমন লিখেছেন, নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্যে, ঝাড়গ্রাম জেলা পরিষদে আমার সহকর্মীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা রইল। এবারে তো অন্ততপক্ষে মন দিয়ে কাজ করুন। প্রশাসন সূত্রে খবর, সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থনে সভাধিপতির অপসারণের বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী লিখিতভাবে মেদিনীপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠানো হবে। এরপর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন সভাধিপতি নির্বাচনের জন্য পরবর্তী তলবি সভার দিন ঘোষণা করা হবে।