নিজস্ব সংবাদদাতা : কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরে এক কিশোর খেলোয়াড়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত কিশোরের নাম প্রসেনজিৎ বিশ্বাস (১৭)। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারুইপুরে তিন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রসেনজিতের ওপর হামলা চালায় এবং তার গলা ছুরি দিয়ে কেটে দেয়। জানা গেছে, একটি ফুটবল ম্যাচে জয়ের জেরে প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। অভিযুক্ত তিন ব্যক্তিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।অভিযোগ রয়েছে যে, ম্যাচের পর তারা প্রসেনজিৎকে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নিয়ে গিয়ে আক্রমণ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা গতকাল রাতে হাসপাতালের সামনে রাস্তা অবরোধ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন ধৃত অভিযুক্তদেরও হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ক্ষুব্ধ জনতা যখন বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠে, তখন অভিযুক্তরা হাসপাতালের বিছানার নিচে লুকিয়ে পড়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন হাসপাতালের চত্বরে অবস্থিত একটি পুলিশ ফাঁড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। বারুইপুর হাসপাতালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা-বিরোধী র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সকে মোতায়েন করা হয়।একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে পূর্বশত্রুতার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ এবং এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। নাকি আরও কোনো কারণ খেলাকে কেন্দ্র করে ছিল সেটাই তদন্ত সাপেক্ষে। দক্ষিণ শহরতলিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্ধারিত সফরের ঠিক আগেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটল। উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই বারুইপুর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল, কারণ, সেখানে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। এই অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে উত্তেজিত জনতা পিটিয়ে হত্যা করেছে এবং আরও তিনজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারপরেই এই ঘটনা ঘটায় সমস্ত বিষয় এক জটিল অবস্থায় রয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সব কিছুর তদন্ত করছে বলে জানা যায়।