আরজি কর ঘটনায় তিন আইপিএসের সাসপেনশনের মেয়াদ বৃদ্ধি
নিজস্ব সংবাদদাতা: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তের জাল আরও বিস্তৃত হচ্ছে। তদন্তে ভূমিকা খতিয়ে দেখতে সাসপেন্ড হওয়া তিন আইপিএস আধিকারিক— তৎকালীন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল, তৎকালীন ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডিসি (নর্থ) অভিষেক গুপ্তার সাসপেনশনের মেয়াদ আরও চার মাস বাড়ানো হল। প্রশাসন সূত্রের খবর, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
প্রসঙ্গত, আরজি কর ঘটনার সময়ে দায়িত্বে ছিলেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন বিনীত গোয়ল। এ ছাড়া ডেপুটি কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন অভিষেক গুপ্ত (ডিসি নর্থ) এবং ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় (ডিসি সেন্ট্রাল)। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার তিন আইপিএস আধিকারিককেই সাসপেন্ড করে। আরজি করের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে সিবিআই। বিনীত, ইন্দিরা এবং অভিষেককে তারা ডেকে পাঠিয়েছিল। গত মাসেই তারা সিবিআই দফতরে হাজিরা দেন। তাদের বয়ান রেকর্ড করে সিবিআই। গত ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসক নাইট শিফট করতে যান। ওই রাতেই সব শেষ। সেমিনার হলে তাকে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। কিন্তু তারপরেও একাধিক ঘটনায় তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কখনও নির্যাতিতার নাম প্রকাশ্যে বলে ফেলা, কখনও ভুল এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ওই সময়ে বিদ্ধ হয়েছিল লালবাজার। এমনকি, হাসপাতালে গড়ে ওঠা অসাধু চক্র’কে আড়ালের অভিযোগও উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে। বিনীতের অপসারণের দাবি জোরালো হলে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরান। তবে অন্য পদের দায়িত্বে বহাল ছিলেন বিনীত। এ ছাড়া, ওই সময়ে পুলিশের তরফে একাধিক সাংবাদিক বৈঠকে ইন্দিরা এবং অভিষেককে দেখা গিয়েছিল। গাফিলতি আড়াল করার অভিযোগ উঠেছিল তাদের বিরুদ্ধে। পরবর্তীকালে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার নেয় সিবিআই। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নতুন করে আর কেউ গ্রেফতার হননি। শেষ পর্যন্ত শিয়ালদহ আদালত ধৃত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দেয়। এবার ঘটনার রাত থেকে শেষকৃত্য পর্যন্ত কী হয়েছিল, সেই ঘটনাক্রম নির্দিষ্ট করে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে ইতিমধ্যেই জেরা করে সিবিআই। দাহ করার সময় ঠিক কী ঘটে তা জানতে শ্মশানের ইনচার্জ ভোলানাথ পাত্রকে প্রায় মিনিট ২০ জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। শ্মশান কর্তৃপক্ষের দাবি, বাবা-মায়ের সম্মতিতেই দাহ করা হয় নির্যাতিতার দেহ। এই ঘটনার তদন্তে সিবিআইয়ের স্ক্যানারে তিন সাসপেন্ডেড আইপিএস আধিকারিক।