এক ঝলক

ময়নাতদন্তে ধর্ষণের পর খুনের ইঙ্গিত, ২ ধৃতের ১৪ দিন পুলিশি হেফাজত

নিজস্ব সংবাদদাতা: বারুইপুরের ঘটনায় যুক্ত হলো গণধর্ষণের ধারা। তারই সঙ্গে সোমবার দুই ধৃত প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দারকে ১৪ দিনের হেফাজতে নেয় পুলিশ। বারুইপুরের ঘটনায় একাধিক ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত সূত্রে খবর, ২০ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রথমে নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। এরপর তদন্তের অগ্রগতিতে দিবাকর সর্দারকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার আরও এক অভিযুক্ত আনন্দ সর্দারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে বুধবার আদালতে তোলা হবে।
Ganamadhyam
07 July, 2026
এদিকে ধৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারা প্রয়োগ করা হয়। ধর্ষণ, গণধর্ষণ, খুন, তথ্য-প্রমাণ লোপাট, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র,  পকসো আইনের ধারা সহ নাবালিকাকে অপহরণ মামলাও দেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে এবং ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগেই এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে প্রভাস মণ্ডল ও দিবাকর সর্দার। তাদের মঙ্গলবার বারুইপুর আদালতে পেশ করা হয়। আদালতে সরকারি আইনজীবী জানান, এটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বিশেষ গুরুত্বের মামলা। তদন্তের স্বার্থে এখনও গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ এবং অন্য পরীক্ষা বাকি রয়েছে। পাশাপাশি, তথ্য-প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই দুই অভিযুক্তকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়। এদিকে এরই মধ্যে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট সামনে আসছে। রবিবারই কাটাপুকুর মর্গে ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে ইঙ্গিত, যৌন হেনস্থা ও মাথায় আঘাত করার পরে অচেতন নাবালিকাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সূত্রের খবর, নাবালিকার মাথায় ক্ষত রয়েছে। কোনও জায়গায় ঠুকে দেওয়ার ফলে বা ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করার ফলে ওই ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি যৌনাঙ্গেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওইটুকু মেয়ের উপরে কী নির্মম অত্যাচার হয়েছে, তারও ইঙ্গিত রয়েছে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে। শরীরের বিভিন্ন অংশে আঁচড়-কামড়ের দাগও রয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে অ্যান্টিমোর্টেম ড্রাউনিং অর্থাৎ মাথায় আঘাতের পরে পুকুরে ফেলার সময়েও নাবালিকা বেঁচে ছিল। শুধু তাই নয়, ময়নাতদন্তে ওই নাবালিকার পাকস্থলী ও ফুসফুসে জল মিলেছে। মাথার ক্ষত থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং জলে ডুবেই শেষ পর্যন্ত নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে। এদিকে স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার বিকেলে বন্ধুর জন্মদিনের উপহার কিনতে বেরিয়েছিল ওই নাবালিকা। দীর্ঘক্ষণ পেরিয়ে গেলেও বাড়ি ফেরেনি। রাত বাড়লে বারুইপুর থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত ডায়েরি করে উদ্বিগ্ন পরিবার।রাতেই এলাকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই নাবালিকাকে চার জন নিয়ে যাচ্ছে। রবিবার, ৫ জুলাই বারুইপুর লাগোয়া সূর্যপুরে ১১ বছরের ওই নাবালিকার বস্তাবন্দি দেহ উদ্ধার হয় ধবধবি ও সূর্যপুর স্টেশনের মাঝামাঝি জায়গায়, রেললাইনের ধারের একটি পুকুর থেকে। নাবালিকার বাড়ি থেকে দূরত্ব দেড় কিলোমিটারের মধ্যে। এদিকে পরিবারের অভিযোগ,  তাকে শারীরিক নির্যাতন করে গলায় পা তুলে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনা ঘিরে রবিবার দিনভর প্রতিবাদের আগুন জ্বলে এলাকায়। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে একজনকে গণপিটুনি দিয়ে মেরে ফেলে উত্তেজিত জনতা। মৃতের নাম ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬)।
ই-পেপার