এক ঝলক

শস্যবিমায় স্বজনপোষণের অভিযোগে ধূপগুড়িতে সড়ক অবরোধ

উৎপল রায় (ধূপগুড়ি): আলু চাষে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েও মেলেনি শস্যবিমার টাকা, উল্টে বিমার টাকা বণ্টনে চরম স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠল কৃষি দপ্তরের বিরুদ্ধে। এই বঞ্চনার প্রতিবাদে এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণের দাবিতে মঙ্গলবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ধূপগুড়ি ঝুমুর এলাকার কৃষি অফিস চত্বর। পরবর্তীতে ধূপগুড়ি-ময়নাগুড়ি ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হন ক্ষুব্ধ কৃষকরা।
Ganamadhyam
08 July, 2026
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মরশুমে আলু চাষ করে ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন ধূপগুড়ি ব্লকের বহু চাষি। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের অনেকেই সরকারি শস্যবিমার কানাকড়িও পাননি। অথচ, যারা আদেও আলু চাষ করেননি, প্রভাবশালীদের সঙ্গে যোগসাজশ থাকায় তাদের অ্যাকাউন্টে দিব্যি ঢুকে গেছে বিমার টাকা। এই অনিয়মের জবাব চাইতে মঙ্গলবার সকালে ধূপগুড়ির ঝুমুর কৃষি অফিসে জড়ো হন শয়ে শয়ে কৃষক। ঠিক কিসের ভিত্তিতে এবং কোন মানদণ্ডে বিমার টাকা বণ্টন করা হয়েছে, তা নিয়ে কৃষি আধিকারিকদের ঘিরে ধরে প্রশ্ন করতে থাকেন তারা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সদুত্তর না মেলায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন উপস্থিত চাষিরা। কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। কৃষি অফিস থেকে কোনো আশ্বাস না পেয়ে কৃষকরা এরপর ধূপগুড়ি-ময়নাগুড়ি ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের ওপর চলে আসেন এবং রাস্তা আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। স্বজনপোষণ বন্ধ করো এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থদের অবিলম্বে বিমার টাকা দাও — এই দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। ব্যস্ততম জাতীয় সড়কে হঠাৎ এই অবরোধের জেরে মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে হাজির হন ধূপগুড়ির মহকুমা পুলিশ আধিকারিক। তিনি উত্তেজিত কৃষকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং কৃষি আধিকারিকদের সঙ্গে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করানোর আশ্বাস দেন। পুলিশের এই ইতিবাচক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।​এরপর কৃষি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা আন্দোলনকারী কৃষকদের আশ্বস্থ করে জানান, বিমা বণ্টনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারিগরি বা অন্য কোনো ত্রুটির কারণে যেসব প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ চাষির অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছায়নি, তাদের প্রাপ্য টাকা দ্রুত পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। ​কর্তৃপক্ষের এই সুনির্দিষ্ট লিখিত ও মৌখিক আশ্বাসের পর বিকেল নাগাদ কৃষকরা তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।
ই-পেপার