বাম আমলেই জমি দখল, এখনও ফেরতের আশায় দিন গুনছে ঘোষ পরিবার
নিজস্ব সংবাদদাতা (বসিরহাট) : মিনাখাঁয় জমি দখল বিতর্কে নতুন মাত্রা। বহু বছর ধরে জমি হারানোর অভিযোগ ঘিরে ফের চর্চায় ঘোষ পরিবার। সম্প্রতি পরিবারের কয়েকজন সদস্য দাবি করেছেন, তাদের জমি সাম্প্রতিককালে জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। তবে একই পরিবারের সদস্য অমীয় কুমার ঘোষ এবং এলাকার বাসিন্দা মানিক প্রামানিকের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন ছবি। তাদের দাবি, জমি-সংক্রান্ত সমস্যার সূত্রপাত বর্তমান সময়ে নয়, বরং বামফ্রন্ট আমলেই। অমীয় কুমার ঘোষ জানান, তাদের পূর্বপুরুষেরা ওড়িশা থেকে বসিরহাটের মিনাখাঁ ব্লকের আটপুকুর এলাকায় এসে বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির নামে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি ছিল। কিন্তু বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ধাপে ধাপে সেই জমির বড় অংশ তাদের হাতছাড়া হয়ে যায় বলে অভিযোগ। তার বক্তব্য, কোথাও জমিকে খাস জমি ঘোষণা করা হয়, কোথাও আবার জোর করে বর্গাদার বসিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে বিঘার পর বিঘা জমির ওপর থেকে ঘোষ পরিবারের নিয়ন্ত্রণ চলে যায়। অমীয় কুমার ঘোষের দাবি, জমি ফিরে পাওয়ার আশায় তাদের পরিবার বছরের পর বছর প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, জনপ্রতিনিধি, এমনকি আদালতের দ্বারেও কড়া নেড়েছেন তারা। কিন্তু এত দীর্ঘ সময় পেরিয়েও অধিকাংশ জমি আজও দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তার কথায়, আমাদের জমির সমস্যা আজকের নয়। বহু বছর আগে, বাম আমল থেকেই এই সমস্যা শুরু হয়েছে। সেই সময় থেকেই আমাদের বহু জমি হাতছাড়া হয়েছে। এখনও সেই জমি পুরোপুরি ফিরে পাইনি।
একই সুর শোনা যায় আটপুকুর এলাকার বাসিন্দা মানিক প্রামানিকের বক্তব্যেও। তার দাবি, এলাকায় জমি দখল ও বর্গাদার বসানোর ঘটনা নতুন নয়। বহু মানুষ জানেন, বামফ্রন্ট সরকারের সময়েই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তার কথায়, ঘোষ পরিবারের জমি আজকের দিনে দখল হয়েছে এমন কথা ঠিক নয়। এই জমি বহু বছর ধরেই অন্যের দখলে রয়েছে। গ্রামের মানুষ জানেন, বিষয়টির সূত্রপাত বাম আমলেই। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বর্তমানে যে অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। তাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত জটিলতাকে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুনভাবে তুলে ধরা হলেও, সমস্যার শিকড় ১৯৭৭ সালে থেকে আটকে রয়েছে।এলাকার প্রবীণদেরও দাবি, মিনাখাঁর বিভিন্ন অংশে বামফ্রন্ট শাসনকালে জমি খাস ঘোষণা, বর্গাদার নথিভুক্তকরণ এবং জমির মালিকানা নিয়ে একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময় বহু জমির মালিক প্রশাসনিক ও আইনি লড়াই করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মিনাখাঁ বিধানসভার বিধায়িকা ঊষারাণী মন্ডলের স্বামী তথা উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের পরিষদীয় দলনেতা মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল বলেন, ঘোষ পরিবারের কিছু সদস্য বর্তমানে এই জমিকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি করছেন। কিন্তু এই জমি দখলের বিষয়ে আমি এবং এলাকার বিধায়িকা কোনভাবেই জড়িত নয়। শুধুমাত্র কালিমালিপ্ত করার জন্য এই ধরনের ঘটনার ঘটানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার রাজ্য জুড়ে আইনের শাসন চালাচ্ছে। মানুষ নিশ্চয়ই সঠিক বিচার পাবে। ঘোষ পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের জমি পুনরুদ্ধারের লড়াই এখনও শেষ হয়নি। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলা এই বিরোধে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক এবং আইনি সব স্তরেই তারা চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু আজও সম্পূর্ণ সমাধান না হওয়ায় পরিবারের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা রয়ে গিয়েছে। সরকার পাল্টেছে, তাই ঘোষ পরিবারে সদস্যরা নতুন করে প্রহর গুনছেন তাদের জবরদখল করা জমি ফিরে পাওয়ার।