নিজস্ব সংবাদদাতা:আদালতের নির্দেশমতোই বুধবার মিছিল করার অনুমতি পেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু সেই মিছিলকে কেন্দ্র করে তৈরি হল বিশৃঙ্খলা। অশান্তির মধ্যেই মেজাজ হারালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সপাটে চড় কষালেন কর্মীর গালেও। বুধবার দুপুরে বালিগঞ্জে কর্মসূচি ছিল তৃণমূলের। সেই কর্মসূচিতে তৃণমূলের একাধিক অনুগামীকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। এই ঘটনার জন্য পুলিশকে দায়ী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, বিজেপির দলদাস হয়ে গিয়েছে পুলিশ। আদালতের নির্দেশমতো নিজেদের কর্তব্য পালন করতে পারেনি।
আদালত অবমাননার অভিযোগ নিয়ে আবার তিনি আদালতে যাচ্ছেন বলে জানালেন। বারুইপুরের নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার তৃণমূলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের আয়োজিত মিছিলে শুরু থেকেই ছিল অশান্তির পরিস্থিতি। বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু করে হাজরা মোড়ে গিয়ে শেষ করার কথা ছিল। মিছিলের সময়ও বেঁধে দিয়েছিল হাই কোর্ট। কিন্তু মিছিল শুরুর খানিকক্ষণ পরেই শুরু হয় অশান্তি। কালীঘাট তৃণমূলের মিছিলে হামলার অভিযোগ ওঠে। বিজেপির লোকজন তাদের বেশ কয়েক জন নেতা-কর্মীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। তৃণমূলের অভিযোগ, কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতিতে বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে হাজরা পর্যন্ত অনুমোদিত রুটে মিছিল করলেও তাতে বিজেপির লোকেরা ঢুকে বাধা দিতে থাকে। স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তা গড়ায় হাতাহাতি-মারপিটে। এই পরিস্থিতির জন্য পুলিশকে দায়ী করেছেন একহাত নিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের কাছে আমার আবেদন, শান্তি প্রতিষ্ঠা করুন। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, ওদের নিজেদের সংগঠনের জোর নেই। গুন্ডা এনে তাণ্ডব করছে। আর এগুলো ঘটছে পুলিশের সামনেই।আমি বিজেপিকে দোষ দেব না। দোষ পুলিশের। আমরা আদালতের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে মিছিল করছি। কিন্তু পুলিশ তাদের ভূমিকা পালন করেনি। পুলিশকে কটাক্ষ করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন , আইসি তো এখন বিজেপির মণ্ডল সভাপতি। এসপি জেলা সভাপতি। টোটাল ল-লেস সিচুয়েশন চলছে। পুলিশ যদি আইনশৃঙ্খলা সামলাতে না পারে... ওরা আদালতের নির্দেশের অবমাননা করেছে। আমরা আবার হাই কোর্টে যাব। মমতা জানান, আদালতের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই তার দলের যুব সংগঠন এই মিছিল করেছিল। কিন্তু বাইক মিছিল করে এই কর্মসূচি ভন্ডুল করেছে বিজেপি। মমতার অভিযোগ, সকাল থেকে তার কাছে হুমকি আসছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আমার বাড়ির সামনে দিয়ে হাজারখানেক বাইক নিয়ে মিছিল করেছে সকালে। কারও মাথায় হেলমেট নেই। চিৎকার করতে করতে আমাকে ভয় দেখিয়েছে। তখন পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে। এর পর বিজেপি সরকারকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তোমরা কী করে সরকারে এসেছ, সেটা তো জানি। মানুষকে সুরক্ষা দাও। এমনিতে হাউস অ্যারেস্ট করে রেখেছে। আমাদের আটকে রাখছে। যেখানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে পুলিশ নেই। বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, এই পরিবর্তনই কি বাংলার মানুষ চেয়েছিল? কী ভাবে ক্ষমতায় এসেছে তা তো আমরা জানি। কিন্তু নিজেদের কাজটা করুন। আমরা কোর্টের পারমিশন নিয়ে মিছিল করতে হয়েছে। তাও ছেলে- মেয়েগুলোতে কী ভাবে মার খেতে হলো। ক্ষুব্ধ তৃণমূল দলের সুপ্রিমো জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আদালত অবমাননার অভিযোগ জানাতে তিনি ফের হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন।