এক ঝলক
কাকদ্বীপে ইলিশের কৃত্রিম প্রজননের জন্য আধুনিক আরএএস ব্যবস্থার উদ্বোধন ময়নাগুড়িতে মৎস্য কর্মাধ্যক্ষ গ্রেফতার মাহেশের জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রা ঐতিহ্যবাহী গুপ্তিপাড়ায় জগন্নাথের স্নান যাত্রা অন্নপূর্ণার টাকা পাচ্ছে শুধু তৃনমূল, অভিযোগ হাওড়ার ডোমজুড়ে

ধূপগুড়িতে ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের বাড়ি ঘেরাও করে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ

উৎপল রায়(ধূপগুড়ি) : সমবায় ব্যাঙ্কে পাহাড়প্রমাণ আর্থিক দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগে এক ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের বাড়ি ঘেরাও করে তুমুল বিক্ষোভ দেখালেন উত্তেজিত গ্রামবাসীরা।
Ganamadhyam
29 June, 2026


ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমারি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম মাগুরমারি সমবায় সমিতির ম্যানেজার মকবুল হোসেনের বাড়ি ঘেরাও করে চলে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি। শুধু বাড়ি ঘেরাও-ই নয়, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা ম্যানেজারের বাড়ির সামনে রাস্তার ওপর বসে পড়েন।
বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সমবায় থেকে ঋণ  দেওয়ার নাম করে বছরের পর বছর ধরে কৃষকদের জমির আসল দলিলসহ একাধিক প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা রেখে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দিনের পর দিন ঘুরেও অধিকাংশ আবেদনকারী কোনো ঋণ পাননি। গ্রামবাসীদের আরও গুরুতর অভিযোগ, যোগ্য উপভোক্তাদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিক রঙ দেখে কেবল শাসকদল তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ লোকদেরই বেছে বেছে ঋণ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, কৃষিকাজের জন্য সরকারি ভর্তুকিযুক্ত সরঞ্জাম চেয়ে বারবার আবেদন করা হলেও, তা সাধারণ চাষিদের কপালে জোটেনি। ​স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ম্যানেজার ব্যাংকে না গিয়ে দিনের পর দিন বাড়িতে বসেই সমস্ত কাজ পরিচালনা করতেন। ঋণের বিষয়ে কথা বলতে হলে উপভোক্তাদের ব্যাংকের বদলে নিজের বাড়িতে ডেকে পাঠাতেন তিনি। ব্যাংকের অডিট বা আর্থিক লেনদেনের কোনো তথ্যই কাউকে জানানো হতো না। সম্পূর্ণ একনায়কতন্ত্র চালিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো সমবায়টি চালাচ্ছিলেন ওই ম্যানেজার। বিক্ষোভে শামিল স্থানীয় বাসিন্দা বিশ্বনাথ বর্মন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,আমি সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়েছিলাম। সেই সময় আমার জমির আসল দলিল জমা নেওয়া হয়। আজ ১০-১৫ বছর কেটে গেলেও আমার দলিল ফেরত দেওয়া হয়নি। কী কারণে আমার দলিল আটকে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে ম্যানেজার কোনো সদুত্তর দেন না। ​অন্য এক গ্রামবাসী চণ্ডীপ্রসাদ রায়ের অভিযোগ, ম্যানেজার একাধিক দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। ব্যাঙ্কের অডিট বা কোনো নিয়মকানুনের তোয়াক্কা তিনি করতেন না। দিনের পর দিন বাড়িতে বসে অফিস চালাতেন। আমাদের প্রাপ্য কৃষি সরঞ্জাম থেকেও আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। তাই আজ বাধ্য হয়েই আমরা ওর বাড়ি ঘেরাও করেছি।
এদিন দীর্ঘক্ষণ ধরে বিক্ষোভ চললেও অভিযুক্ত ম্যানেজার বাড়িতে ছিলেন না। ফলে তাঁর পরিবারের সদস্যদের ঘিরেই ক্ষোভ উগরে দেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ধূপগুড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুলিশ এসে প্রথমে বিক্ষোভকারী গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। এরপর ম্যানেজারের পরিবারের মাধ্যমে ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন পুলিশ আধিকারিকরা। ​অবশেষে পুলিশের মধ্যস্থতায় একটি রফাসূত্র বের হয়। সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী সোমবার সমবায় ব্যাঙ্কের ম্যানেজার, কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং গ্রামবাসীদের নিয়ে একটি যৌথ বৈঠকে বসা হবে। সেখানেই সমস্ত অভিযোগের নিষ্পত্তি করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এই লিখিত আশ্বাসের পর দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা পর গ্রামবাসীরা তাঁদের বিক্ষোভ তুলে নেন। অন্য দিকে, সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ম্যানেজারের স্ত্রী রানু খাতুন। তিনি জানান, গ্রামের মানুষ এসে আচমকা বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তবে আমার স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। উনি গত কয়েকদিন ধরে ভীষণ অসুস্থ এবং আজ চিকিৎসার কারণে বাড়িতে নেই। ​সোমবারে প্রস্তাবিত বৈঠকের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন মাগুরমারির কয়েকশো ভুক্তভোগী কৃষক। দুর্নীতি প্রমাণিত হলে সমবায়ের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েও এলাকায় চর্চা শুরু হয়েছে।
ই-পেপার