নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ উওর ২৪ পরগনার কামারহাটির গ্রাহাম রোডের বাড়ি থেকে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরের টোল ক্রস ইন্টারন্যাশনাল সুইমিং সেন্টার সুদীর্ঘ এই যাত্রাপথটা মোটেও সহজ ছিল না বছর চব্বিশের তরুণের কাছে।
২৪শে জুলাই দেশের হয়ে কমনওয়েলথ গেমসের আসরে প্রতিনিধিত্ব করেছেন বাংলা ও বাঙালির গর্ব আলি ইমাম। গ্লাসগোর মাটিতে প্যারা সুইমিংয়ের এস-১৩ ক্যাটাগরির (দৃষ্টি জনিত সমস্যা ভুক্ত) ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইল ইভেন্টে সপ্তম স্থান অর্জণ করা আলি ইমামের এটাই খেলোয়াড়ী জীবনের প্রথম মাল্টি স্পোর্টস ইভেন্ট। যদিও এর পূর্বে ২০২৪ সালে ইতালিতে ও ২০২৫ সালে বার্সেলোনায় ওয়ার্ল্ড প্যারা সুইমিং সিরিজে খেলেছেন তিনি ২০১৬ সালে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ব্লাইনড বয়েজ একাডেমীতে পড়াকালীন সুইমিংয়ের পাঠ শুরুর বছর দশকের মধ্যেই জাতীয় পর্যায়ে রীতিমত চোঁখধাঁধানো সাফল্য তার ঝুঁলিতে। জাতীয় প্রতিযোগিতায় ২১টি সোনা সহ ২৫টি পদকের অধিকারী আলি ইমাম বর্তমানে বেঙ্গালুরুর একটি অ্যাকোয়াটিকস সেন্টারে প্রশিক্ষক শরথ চন্দ্রের তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতি নেন । শুধুমাত্র পদক জয়ই নয় জাতীয় প্যারা সুইমিংয়ের তিনটি ইভেন্টে (৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক, ৫০ মিটার ফ্রি স্টাইল, ২০০ মিটার ব্যাক্তিগত মেডলি) রেকর্ডধারী আলি ইমামকে ফোনে পাওয়া গেলে তিনি জানান ' ছোট থেকে অনেক লড়াই করে আজকে এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছি, বাবা একসময় জুটমিলে কাজ করত এখন সেখান থেকে অবসর নিয়েছে। আর্থিক অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও খেলা ছেড়ে দেবার কথা ভাবিনি কোনোদিনও '। কমনওয়েলথ গেমসে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পাবার পর এবার এশিয়ান প্যারা গেমসের প্রস্তুতিতে কোনা খামতি রাখছেন না কামারহাটির গর্ব আলি ইমাম। কমনওয়েলথে নিজের সেরাটা দেবার পর লস এঞ্জেলেস অলিম্পিক গেমসেই পাখির চোখ তার।