এই অবস্থায় গুদাম বিপর্যয়ে ফিরহাদকে গ্রেফতার করার দাবি জোরালো হচ্ছে। তারাতলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিবৃতি দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নথি দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ফাইলে সই রয়েছে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের। তিনি এও দাবি করেন, গুদামের নকশা ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং তাতে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছিলেন তদানীন্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তার পরেই তাকে গ্রেফতারের দাবিতে সরব হয়েছে বিরোধীরা। তার গ্রেফতারির দাবিতে সুর চড়াচ্ছেন মমতা-পন্থী তৃণমূল নেতারা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বাম ও কংগ্রেস। এমনকি, বিজেপির নেতা-মন্ত্রীরাও সেই দাবি জানাচ্ছেন। প্রসঙ্গত, কলকাতা বন্দরের বিধায়ক আপাতত বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। আর সেই কারণেই ফিরহাদের প্রতি বিজেপি সরকার নরম মনোভাব নিয়ে চলছে বলে দাবি বাম ও কংগ্রেসের।কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও তারাতলার বিপর্যস্ত গুদামের ত্রুটিযুক্ত প্ল্যান পাশের নেপথ্যে ছিল আরও অনেকে। হয়তো ছিলেন কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তিও।কালীর মাথায় হাত ছিল কার, সেই তথ্যের খোঁজে সিট। সরকারি আইনজীবীর এই যুক্তিতে তারাতলা কাণ্ডে ধৃত কালীকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন আলিপুর আদালতের বিচারক। আগামী ৪ জুলাই পর্যন্ত শ্রীঘরে থাকতে হবে কালীকে। তারাতলার ভেঙে পড়া গুদামের নকশায় চূড়ান্ত ছাড় দেওয়ার অভিযোগে বিদ্ধ প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। ফিরহাদ অবশ্য দায় এড়িয়েছেন। তিনি বলেন,আমি যত দূর জেনেছি, গোডাউনটা বেআইনি নয়।নজরদারির অভাব ছিল। মেয়র বা কমিশনার গিয়ে তো আর নজরদারি করতে পারেন না। তার যুক্তি, তিনি বিশেষজ্ঞ নন, মিটিং নোটে তার সই একটি ফর্মালিটি মাত্র। কিন্তু ফিরহাদকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করার দাবি জানিয়েছেন মমতা শিবিরের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সাংসদ মহুয়া মৈত্রের প্রশ্ন, প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস যদি দু’সপ্তাহের ওপর জেলে থাকেন, তবে ফিরহাদ মুক্ত কী ভাবে? সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, সরকার- অনুগত বিরোধী দলের অংশ হওয়ার কারণেই কি শহরে একের পর এক নির্মাণ দুর্ঘটনার পরেও প্রাক্তন মেয়র তথা পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর গায়ে আঁচ লাগছে না? বিজেপির নেতাদের অবশ্য যুক্তি, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বিধানসভায় ফিরহাদের নাম তুলে নথিতে তার সই দেখিয়েছেন, সেখানে তার সরকার ফিরহাদকে বাঁচাবে, এই প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে? কালীঘাট-তৃণমূলের বক্তব্য, ফিরহাদের নাম করার পরই এর মূল চক্রী হিসেবে ফিরহাদের তৎকালীন ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নেন শুভেন্দু অধিকারী। তার পরেই বলেন কালীচরণ ক্যামাক স্ট্রিট অর্থাৎ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ের নিয়োগ। পুরো বিষয়টা তৃণমূলের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ কালীঘাট- তৃণমূলের। তাদের দাবি, নিজেকে বাঁচাতে আশায় তৃণমূলের নেতারা একের পর এক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। ফিরহাদকে গ্রেফতার করলে বিজেপির আস্থা হারাতে পারে ‘বিদ্রোহী’ শিবির। আবার ফিরহাদের মেয়ে প্রিয়দর্শিনী হাকিম ছিলেন ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মমতার কাউন্টিং এজেন্ট। গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে ইতিমধ্যেই মামলা করেছেন মমতা। আদালত সেটি গ্রহণও করেছে। সেই নির্বাচনী মামলায় এক জন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী হবেন প্রিয়দর্শিনী। সেই কারণেই বিজেপি ফিরহাদকে ছাড় দিতে চাইছে বলে অভিযোগ কালীঘাট-তৃণমূলের। তবে শেষ পর্যন্ত ফিরহাদ গ্রেফতার না-হলে বাম,কংগ্রেস ও কালীঘাট তৃণমূলের ভাসিয়ে দেওয়া সেটিং তত্ত্ব যে জনমানসে প্রাধান্য পাবে, এই আশঙ্কা অনেক বিজেপি নেতারই রয়েছে।