এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন বিজেপি সরকার। শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের নজরে আপাতত কলকাতা, বিধাননগর, বরানগর, কামারহাটি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকার নির্মীয়মাণ বেসরকারি বাণিজ্যিক বহুতল। এই সব বহুতলের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করবে অডিট কমিটি। স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য আপাতত ১ মাস বন্ধ জি+৫ নির্মাণ। নকশা বড়সড় ত্রুটি পেলে বাতিল হতে পারে বহুতলের অনুমোদন। শুক্রবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সচিব খলিল আহমেদ, কলকাতা পুরনিগমের প্রশাসক, পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই হাইরাইজ এবং কমার্শিয়াল বিল্ডিং বা বাণিজ্যিক ভবনে স্পেশাল অডিট, ফায়ার অডিট নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ৩১ জুলাই পর্যন্ত সমস্ত বেসরকারি বাণিজ্যিক নির্মাণকাজ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্মাণ প্রকল্পগুলির অডিট করা হবে এবং অডিট রিপোর্ট পর্যালোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি কোনও প্রকল্পে নির্মাণ সংক্রান্ত বেনিয়ম ধরা পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, কলকাতা, বিধাননগর, রাজারহাট, নিউ টাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, পুজালি এবং মহেশতলা পুরসভা এলাকায় আপাতত বেসরকারি বাণিজ্যিক নির্মাণকাজ বন্ধ থাকবে। একইসঙ্গে দক্ষিণ দমদম, বরানগর এবং কামারহাটি পুরসভা এলাকাতেও এক মাসের জন্য এই ধরনের নির্মাণকাজে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, নিরাপত্তা ও নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, নিয়ম না মানলে বিল্ডিং প্ল্যান বাতিল হবে। মানুষের জীবনের দাম আছে। সরকারের উদ্দেশ্য নগরায়ন আটকানো নয়, কিন্তু নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে শুক্রবার রাতের মধ্যেই তারাতলার উদ্ধারকাজ শেষ করার চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে এনডিআরএফ। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে আগামী এক মাস তারাতলা, বরানগর, দক্ষিণ দমদম এবং কামারহাটির নির্দিষ্ট এলাকায় সমস্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, রাজ্যের সমস্ত নির্মীয়মাণ বহুতলের জন্য বিশেষ অডিট টিম গঠন করা হবে। জি প্লাস ফাইভ বা তার বেশি উচ্চতার সমস্ত ভবনকে বহুতল হিসেবে ধরে বাধ্যতামূলক অডিট করা হবে। এছাড়া বাণিজ্যিক বহুতলগুলিতে দমকলের তরফে পৃথক নিরাপত্তা অডিটও করা হবে।
তারাতলায় ভেঙে পড়া গোডাউনের আর্কিটেক্ট ও ডিজাইনারকে ইতিমধ্যেই ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যেখানে যেখানে নির্মাণে বেনিয়ম ধরা পড়বে, সেখানকার দায়ীদেরও ব্ল্যাকলিস্ট করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করাতে কোথাও যদি ঘুষ লেনদেন হয়ে থাকে,তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার কথা বলেন। কোন আবাসনকে ‘হাইরাইজ’ হিসেবে অডিটের আওতায় রাখা হবে, সে ব্যাপারেও এ দিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘জি প্লাস ফাইভ’ বা তার বেশি উঁচু আবাসনকেই ‘হাইরাইজ’ হিসেবে গণ্য করা হবে। কোনও সাধারণ আবাসিক ভবনের সংস্কার, রেনোভেশন বা প্ল্যান নিয়ে এক্সটেনশন এই অডিটের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। শুভেন্দু বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য নগরায়ন বন্ধ করা নয়। তবে দুর্ঘটনার কারণে এই সাবধানতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিল্ডিং প্ল্যান অডিটের টিম তৈরি করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাণিজ্যিক বহুতলে ফায়ার অডিট হবে। মানুষের জীবনের দাম আছে। বহুতলেরও প্ল্যান অডিট করা হবে।