শৈলেন রায় (ক্রান্তি): প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষা নামতেই জলবন্দি চেংমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের সাহেববাড়ি এলাকার প্রায় ৮৫টি পরিবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর বন্যার কবলে পড়লেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ঘরবাড়ি প্লাবিত হলে পরিবারগুলিকে বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
বন্যা প্লাবিত এলাকার পবিত্র রায়, আব্দুল সামাদ জানান বন্যার সময় মন্ত্রী থেকে জনপ্রতিনিধিরা এলাকা পরিদর্শনে এলেও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ বা জল নিষ্কাশনের মতো দীর্ঘমেয়াদি কোনো প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। ত্রাণ মিলেছে, কিন্তু মেলেনি দুর্ভোগ থেকে মুক্তির পথ। ফলে প্রতি বছর একই দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। মাল মণ্ডল-৫-এর সভাপতি দীপক ওড়াওঁ অভিযোগ করে বলেন, “বন্যার সময় ত্রাণের নামে বিপুল অর্থ বরাদ্দ হলেও তার সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সাধারণ মানুষ জলবন্দি অবস্থায় কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন, অথচ তাদের নামেই ত্রাণের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে। স্থায়ী সমাধানের বদলে শুধু ত্রাণ বিলি করে দায় এড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে, চেংমারী গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আব্দুল সামাদ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, গতবার মন্ত্রীরা এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন এবং স্থায়ী সমাধানের একটি পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর সেই বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি বা আপডেট পাওয়া যায়নি। গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে বরাদ্দ হওয়া সমস্ত ত্রাণ সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ত্রাণের অর্থ নিয়ে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।” চাপান উতোর চলছেই। এলাকাবাসীর একটাই প্রশ্ন—প্রতি বছর ত্রাণ মিললেও কবে মিলবে বন্যা সমস্যার স্থায়ী সুরাহা?