স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চায়েত সদস্যা মানজিনা খাতুনের বিরুদ্ধে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে দুর্নীতি, জব কার্ডে অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে গ্রামবাসীদের হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এদিন দুপুরে তার শাস্তির দাবিতে শতাধিক গ্রামবাসী, বিশেষত মহিলারা, একজোট হয়ে তার বাড়ি ঘেরাও করেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে এই তুমুল বিক্ষোভ। গণবিক্ষোভের আঁচ পেয়ে আগেই গা ঢাকা দেন ওই তৃণমূল সদস্যা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ধূপগুড়ি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে এবং অভিযুক্তের খোঁজে পুলিশের উপস্থিতিতেই বাড়ির তালা ভাঙা হয়। ঘরের ভেতর আলমারি থেকে শুরু করে খাটের তলা— সর্বত্র চিরুনি তল্লাশি চালায় প্রশাসন। এমনকি আশেপাশের দুই-তিনটি বাড়িতেও খোঁজ চালানো হয়। তবে দীর্ঘ তল্লাশির পরও ওই পঞ্চায়েত সদস্যার কোনো হদিস মেলেনি। এরপরই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পুলিশ আধিকারিকরা গোটা বাড়িটিতে নতুন করে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং সেই চাবি আন্দোলনকারী গ্রামবাসীদের হাতে তুলে দেন। পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে, দ্রুত লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের এই লিখিত প্রতিশ্রুতির পর বিকেলের দিকে আন্দোলনকারীরা ধূপগুড়ির ওই এলাকা থেকে বিক্ষোভ তুলে নেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে।